রামের জন্ম ভূমিতে সম্প্রীতিতে মিলছে হিন্দু-মুসলমান! মসজিদ নির্মাণের সাহায্যে হিন্দুরা!

বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি ফিরছে রামের জন্মভূমি অযোধ্যায়। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ৫ই আগস্ট ভূমি-পুজোর পর অবশেষে অযোধ্যায় শুরু হয়েছে রাম মন্দিরের নির্মাণ কাজ৷ এক‌ই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতোই অযোধ্যা শহরের বাইরে তৈরি হচ্ছে মসজিদও৷ আর এই মসজিদ নির্মাণকে ঘিরেই ফের সম্প্রীতি বদ্ধ হল হিন্দু মুসলমান।

সূত্রের খবর, এই মসজিদ নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে চেয়ে যাঁরা ফোন করছেন, তাঁদের ৬০ শতাংশই নাকি হিন্দু সমাজভুক্ত৷ আর এই কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ট্রাস্ট। অযোধ‍্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস, রাম মন্দির আন্দোলনকে ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিভেদ তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘদিন পরে তা দূরে সরিয়ে ফের সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরে আসছে৷

অযোধ্যা শহরের বাইরে ধন্নিপুর গ্রামে এই মসজিদ তৈরি হওয়ার কথা৷ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সেখানেই উত্তর প্রদেশের সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছে৷ মসজিদের নির্মাণকাজ দেখাশোনার জন্য একটি ১৫ সদস্যের ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে৷ ইন্দো- ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামে ওই ট্রাস্টের মুখপাত্র আতহার হুসেন জানিয়েছেন, ‘মসজিদ নির্মাণের জন্য যেভাবে মানুষ এগিয়ে এসেছেন তাতে আমরা অভিভূত৷ যাঁরা অনুদান দিতে চেয়ে ফোন করছেন, তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই হিন্দু৷’ এখনও পর্যন্ত যা হিসেব করা হয়েছে, তাতে মসজিদ নির্মাণের পরেও ওই ট্রাস্টের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা থাকবে৷ তা দিয়েই মসজিদের পাশাপাশি একটি হাসপাতাল, কমিউনিটি কিচেন এবং শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷

প্রসঙ্গত রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর অনুষ্ঠানেও সু্প্রিম কোর্টে অযোধ্যার জমি বিবাদের মূল মামলাকারী ইকবাল আনসারি, পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত সমাজসেবক মহম্মদ শরিফ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টে অন্যতম মামলাকারী জাফারইয়াব জিলানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল৷ সেই অনুষ্ঠানেই রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রধান মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস ঘোষণা করেন, মন্দির তৈরির জন্য মুসলিমদের থেকেও অনুদান গ্রহণ করা হবে৷ কারণ দীর্ঘ দিনের বিবাদ অবসানে মুসলিম নেতৃত্বই মন্দির নির্মাণের জন্য অনুদান দিতে চেয়েছিলেন৷

তবে মসজিদ তৈরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও নরেন্দ্র মোদি সেখানে উপস্থিত হবেন কি না, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কিছু বলা হয়নি৷

Reply