আজ স্বাধীনতা দিবস, জানুন কবে ও কিভাবে তৈরি হলো জাতীয় পতাকা, রইলো পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

আজ থেকে ২০০ বছর আগে পন্ডিত জহরলাল নেহেরুর ডাকে দিল্লির কনস্টিটিউটড হলে একত্রিত হয়েছিলেন ভারতের গণপরিষদের সদস্য। তাদের বক্তব্য ছিল যে দেশ স্বাধীন হলে তো আর হবে না, স্বাধীন দেশের জন্য আদর্শ একটি পতাকা ও তো প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে স্থির করা হল যে ভারতের জাতীয় পতাকা হবে তিরঙ্গা। তার উপরে থাকবে গেরুয়া নিচে কালো সবুজ এবং মধ্যিখানে সাদা। জহরলাল নেহেরুর আগে অবশ্য মহাত্মা গান্ধী ভারতের জন্য একটি পতাকা তৈরি করেছিলেন যার মাঝখানে ছিল চরকা। সেই পতাকাটি হয়েছিল তেরঙ্গা।ভারতের জাতীয় পতাকার ক্ষেত্রে অবশ্য চরকা তুলে নিয়ে অশোক চক্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের পতাকা কেমন হবে তা নিয়ে প্রতি পর্যায়ে আলোচনা চলে।

অবশেষে ১৪ ই আগস্ট মাঝরাতে স্বাধীন ভারতের ক্ষমতা পাবার পর ১৫ ই আগস্ট লালকেল্লা ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু। তবে প্রথম পতাকা দেখতে কেমন ছিল? গবেষকদের মত অনুযায়ী, স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা সিস্টার নিবেদিতা প্রথম ভারতের পতাকার ডিজাইন তৈরি করেছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালে এই পতাকার নকশা তৈরি করা হয়।তর্ক সাপেক্ষে অন্য একটি তথ্য অনুযায়ী ১৯০৬ সালে ৭ আগস্ট কলকাতার পার্শিবাগান স্কোয়ারে ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।

সেই পতাকা তিরঙ্গা হলেও আজকে জাতীয় পতাকার সঙ্গে তার কোন মিল ছিল না। পতাকার একদম উপরে ছিল সবুজ রং, মধ্যে হলুদ এবং শেষে ছিল লাল। পতাকার মধ্যে লেখা ছিল বন্দেমাতারাম।এই পতাকাটি নকশা তৈরি করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্র প্রসাদ বসু এবং হেমচন্দ্র কানুনগো। লাল রং এর প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছিল সূর্য এবং চন্দ্র। অন্যদিকে সবুজ রঙে অংশ ছিল একটি অর্ধ নিমিলিত পদ্ম। ম্যাডাম কামা এবং তার বিপ্লবী সহকারীরা জার্মানিতে প্রথম ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন ১৯০৭ সালে। সে প্রথম বিদেশের মাটিতে উঠেছিল ভারতের কোন পতাকা।

১৯১৭ সালে অ্যানি বেসান্ত এবং লোকমান্য তিলক আরও একটি নতুন পতাকা তৈরি করেছিলেন, যেখানে ছিল সপ্তর্ষিমণ্ডলের তারা।বর্তমানে আমরা যে পতাকাটি দেখতে পাই সেই পতাকাটিকে তিরঙ্গা তে স্থান দেওয়ার কথা প্রথম মহত্মা গান্ধীকে জানান পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া, তিনি ভারতীয় স্বাধীনতার যোদ্ধা ছিলেন।দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি যখন ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির হয়ে উপস্থিত ছিলেন,তখন তার সঙ্গে দেখা হয় মহাত্মা গান্ধী।ভারতের পতাকার নকশা নিয়ে তিনি একটি বইও প্রকাশ করেন ১৯১৬ সালে। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভায় গান্ধীজিকে তিনি কয়েকটি পতাকার নকশা এঁকে দেখান।

যেখানে লাল এবং সবুজ রঙ ছিল হিন্দু এবং মুসলিম ধর্ম কে বোঝানোর জন্য। তবে গান্ধীজী বলেন যে দুটি রং এর সঙ্গে সাদা রং কেও রাখতে হবে,ভারতের ওই দুই ধর্মালম্বীরা ছাড়াও আরো অনেক ধর্মের লোক বাস করে, তাদের মধ্যে বিবাদ লাগতে পারে। এছাড়া দেশের উন্নতির প্রতীক হিসেবে সরকার কথা বলেন তিনি।শেষমেষ লাল রং ছড়িয়ে গেরুয়া রংকে নিয়ে আসা হয় শক্তি এবং সাহসিকতার প্রতীক হিসাবে। সাদা রং রাখা হয় সত্য এবং শান্তির প্রতীক হিসেবে, সবুজ ভারতের উর্বরতা বৃদ্ধি এবং শুভকামনা।ভারতের জাতীয় পতাকায় কোন ধর্মীয় ইঙ্গিত যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছিল।

Reply