একটা যুগের অবসান, ধোনির মতো অধিনায়ক আর পাবে না ভারত: সৌরভ

যবনিকা পতন। ১৫ অগস্ট, ২০২০, সন্ধে ৭টা ৩০ মিনিট দেশবাসীর মনের মণিকোঠায় লেখা থাকবে ‘মাহেন্দ্রক্ষণ’ হিসেবেই। কারণ এই দিন, ঠিক এই সময়েই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারকে বিদায় জানালেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। আর এহেন মাহির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল যে অধিনায়কের অধীনে সেই সৌরভও আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়েছেন ধোনি অবসর নিতেই। বলছেন, ‘একটা যুগের অবসান’।

সৌরভের কথায়, ‘দেশ এবং বিশ্ব ক্রিকেটের কাছে মহেন্দ্র সিং ধোনি একজন দৃষ্টান্ত। কী অসাধারণ ক্রিকেটার তিনি। ওঁর নেতৃত্ব দেওয়ার চমৎকার প্রতিভা কারও সঙ্গেই মিলবে না। বিশেষ করে শর্টার ফরম্যাটের ম্যাচে।’ ২০০৭ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫ ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলার আগেই অধিনায়ক পদে বসানো হয়েছিল ধোনিকে। ২০০ ওয়ানডে ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি, তার মধ্যে ১১০টি তে জয় পেয়েছেন আর ৭৪টি ম্যাচে ধোনির নেতৃত্বে হেরেছে ভারতীয় দল।

ভারতীয় দলে এখনও অবধি যত অধিনায়ক ২০০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের নিরিখে তিন নম্বরে রয়েছেন ধোনি। ম্যাচ জয়ের পরিসংখ্যানে তাঁর গড় ৫৯.৫২। সিবি ট্রাই সিরিজে পর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে রেকর্ড করেছিলেন ধোনি। আবার তাঁর নেতৃত্বেই ভারতীয় দল টেস্টে এক নম্বর স্থানও দখল করেছিল। তবে এহেন ধোনি দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন অসাধারণ। কিন্তু তাঁর জীবনের অদ্ভুত সমাপতন হল, অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রান আউট এবং জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই রান আউটের শিকারই হয়েছিলেন এম এস ধোনি।

অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন ধোনি। তবে তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ তাঁর উপরে ভরসা রেখেছিলেন। সুযোগ দিয়েছিলেন। তারপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভাইজ্যাগে ৩ নম্বরে ধোনিকে খেলতে পাঠিয়েছিলেন সৌরভ। আর সেই ম্যাচেই ১৪৮ রান করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন ধোনি। বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসে ধোনিই একমাত্র উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান যাঁর জিম্মায় ১৮৩ রান করার রেকর্ড রয়েছে। ধোনির এহেন রেকর্ডকে সৌরভ বলছেন, ‘অসাধারণ। উঠতি উইকেটকিপারদের কাছে ধোনি দৃষ্টান্ত এবং অতি অবশ্যই তাঁদের অনুপ্রেরণা।’

সৌরভের কথায়, ‘একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধোনির ব্যাটিং সারা বিশ্বের কাছেই একপ্রকার চমক। ওইরকম র ট্যালেন্ট ক্রিকেট ইতিহাসে আর দেখা যায়নি। তবে সব ভালো জিনিসেরই একটা শেষ আছে। আর ধোনির সেই শেষটাও অসাধারণ। উইকেটকিপারদের স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়েছে ধোনির জন্যই। মাঠের কোনও রকমের খেদ অনুশোচনা ছাড়াই খেলা ছেড়েছে ধোনি।

Reply