ভারতের যে জায়গায় এখনও ক’রো’না ছুঁতেও পারেনি কাউকেই

দিন যতই যাচ্ছে ততই গোটা বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশেও বেড়েই চলেছে ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তে’র সংখ্যা। সং’ক্র’ম’ণে’র নিরিখে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে আ’ক্রা’ন্ত ও মৃ-তের গ্রাফচিত্র। এই অবস্থায় ভারতের প্রায় প্রত্যেকটি রাজ্যেই কম-বেশী ক’রো’না সং’ক্র’ম’ণে’র শিকার। আর এই মা’র’ণ ব্যাধির দাপট ঠেকাতে কার্যত যখন নাজেহাল দশা সরকারের তখন ক’রো’না ভাইরাসের সং’ক্র’ম’ণ এখনও ছুঁতে পারেনি ভারতের একটি রাজ্যকে।

ফলে ক’রো’না সচেতনতার নিরিখে ভারতের এই রাজ্য হতে পারে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাহলে আসুন জেনে নি ভারতের ঠিক কোন রাজ্যে এখনও পৌঁছতে পারেনি ক’রো’না’র দাপট।

‘লাক্ষাদ্বীপ’ কেন্দ্রশাসিত ভারতের সবথেকে ছোটো এই রাজ্যটির নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নীল জলরাশির এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। গোটা ভারতের মধ্যে একমাত্র এই রাজ্যেই এখনও প্রবেশ করতে পারেনি ক’রো’না’র সং’ক্র’ম’ণ।

আর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই রাজ্যকে পুরোপুরি ক’রো’না মুক্ত রাখার পিছনে অবশ্যই স্থানীয় প্রশাসনের অবদান অনস্বীকার্য। ভারতের ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষদ্বীপ। এটি হল একটি দ্বীপপুঞ্জ যা ৩৬ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এই দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন মাত্র ৩২ বর্গ কিলোমিটার।

এর রাজধানী কাভরাট্টি এবং এটি ইউটি-র প্রধান শহরও বটে। সমস্ত দ্বীপপুঞ্জ তথা উপকূলীয় শহর কোচির ২২০ থেকে ৪৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই লাক্ষদ্বীপ।

সূত্রের খবর, অবস্থানগত দিক থেকে এটি কেরলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সং’ক্র’ম’ণ রোধে প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল কেন্দ্রশাসিত এই অঞ্চলটি। অ’তিমারী ঠেকাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে এই রাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটক সহ যে কোনও ব্যক্তিকেই মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় স’র্ত’কবিধি।

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই রাজ্যে আগত বিমানযাত্রীদের থার্মাল স্ক্রিনিং এর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও যে কেউ লাক্ষদ্বীপে আসতে চাইলে প্রথমে তাঁকে কোচিতে বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকতে হবে। তারপরে তাঁদের ক’রো’না পরীক্ষা করাতে হবে। রিপোর্ট নে’গে’টিভ মিললেই তবেই তাঁদের লাক্ষদ্বীপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, লাক্ষাদ্বীপে পৌঁছনোর পরও তাঁদের আবার কোয়ারান্টিনে যেতে হবে। এমন কঠোর নির্দেশ এখনও অব্যাহত রয়েছে এই রাজ্যে। যারফলে এখনও পর্যন্ত ক’রো’না শূন্য রয়েছে ভারতের এই রাজ্য।

এই বিষয়ে ইউটি প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার কাঠামো দুর্বল হওয়ায় এ জাতীয় নি’ষে’ধা’জ্ঞাগুলি কার্যকর হয়েছে। ইউটিতে মাত্র তিনটি হাসপাতাল রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত ভারতে ক’রো’না আ’ক্রা’ন্তে’র সংখ্যা ২৫,৮৯,৬৮২। একদিনে আ’ক্রা’ন্ত ৬৩,৪৯০জন। সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৮,৬২,২৬০। রবিবার পর্যন্ত সুস্থতার হার ৭১.৯১ শতাংশ।

Reply