ডাঃ আবদুর রহমান ডাক্তারি করার নামে ISIS-এর হয়ে কাজ করত ! আজ গ্রেফতার করল NIA

স-ন্ত্রা-স বাদী সংগঠন ‘ই’স’লা’মি’ক স্টে’ট অফ সিরিয়া অ্যা’ন্ড ‘রাক’ (ISIS)-এর সঙ্গে যোগযোগ থাকার অভিযোগে বেঙ্গালুরুর বছর আটাশের এক জুনিয়র চিকিত্‍‌সককে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী দল, NIA-র গোয়েন্দারা। সোমবার রাতেই অভিযুক্ত ওই চিকিত্‍‌সককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বেঙ্গালুরুর এমএস রামাইয়া মেডিক্যাল কলেজের চক্ষু বিভাগের জুনিয়ার রেসিডেন্ট ডাক্তার।

এনআইএ’র দাবি, আব্দুর রহমান নামে অভিযুক্ত চিকিত্‍‌সক জেরায় স্বীকার করেছে ই’স’লা’মি’ক স্টে’ট খোরাসান প্রদেশ, ISPK-এর সঙ্গে সে জড়িত। তা ছাড়া, সিরিয়ার আ’ইসিস অপা’রে’টিভদের সঙ্গেও যে তার ভালোরকম যোগাযোগ রয়েছে, তা-ও সে অস্বীকার করেনি । ধৃত চিকিত্‍‌সকের বাড়ি বেঙ্গালুরুর বসবনগুড়ি এলাকায়।

আ’ইসিসের মতো জ-ঙ্গি সংগঠনে আব্দুর রহমানের ভূমিকা কী? জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, সংঘাত অঞ্চলে আ’ইসিস জ-ঙ্গি দের চিকিত্‍‌সা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভার লাঘব করতে বেঙ্গালুরুর এই চিকিত্‍‌সক একটি মেডিক্যাল অ্যাপলিকেশন বানাচ্ছে। শুধু মেডিক্যাল অ্যাপই নয়, আ’ইসিসের জ-ঙ্গি দের জন্য আ-গ্নে-য়া-স্ত্র সম্পর্কিত আরও একটি অ্যাপ তৈরিতেও সে সহযোগিতা করছে।

চলতি বছর মার্চে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল আব্দুর রহমানের আ’ইসিস-যোগের বিষয়টি জানতে পেরে একটি মা’মলা রুজু করে। বিষয়টিকর সঙ্গে জাতীয় সুরক্ষা জড়িয়ে থাকায়, এনআইএ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তার প্রেক্ষিতেই সোমবার রাতে গ্রেফতার হয়েছে ওই জুনিয়ার ডাক্তার।

এ বছর মার্চ মাসে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের হাতে ধরা পড়ে এক কাশ্মীরি দম্পতি। দিল্লির জামিয়া নগরের ওখলা বিহার থেকে গ্রেফতার করা হয় জাহানজাইব সামি ওয়ানি ও তার স্ত্রী হিনা বাশির বেগকে। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই কাশ্মীরি দম্পতির সঙ্গে ই’স’লা’মি’ক স্টে’ট খোরাসান প্রদেশের সম্পর্ক রয়েছে। আ’ইএসকেপি’র হয়ে তারা কাজ করে। কাশ্মীরের এই দম্পতি দেশবি’রোধী কার্যকলাপে লিপ্ত। এদের জেরা করতে গিয়েই বেঙ্গালুরুর ওই চিকিত্‍‌সকের নাম সামনে আসে।

এনআইএ’র গোয়েন্দারা আরও জানান, এই কাশ্মীরি দম্পতির সঙ্গে আব্দুল্লা বাসিথেরও যোগাযোগ ছিল। আ’ইসিসের আবু ধাবি মডিউলের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একটি মামলায় আব্দুল্লা এখন রয়েছে তিহাড় জেলে। কাশ্মীরি এই দম্পতি গ্রেফতারের পরেই মামলাটি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে গত জুনে সাদিয়া আনোয়ার শেখ ও নাবিল সিদ্দিক খাতরিকে পুনের বাড়ি থেকে পাকড়াও করে এনআইএ। আ’ইএসকেপি’র সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই এই গ্রেফতারি।

আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারের পর বেঙ্গালুরুর একটি গোপন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাকে জেরা করা হয়। জেরায় জানা যায়, ২০১৪ সালে সিরিয়ায় আ’ইসিসের মেডিক্যাল ক্যাম্পে সে গিয়েছিল। আইসিস জ-ঙ্গি দের চিকিত্‍‌সা করাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ১০ দিন থেকে সে দেশে ফিরে আসে। এই চিকিত্‍‌সককে গ্রেফতারের পর ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করতে তিনি জায়গায় অভিযান চালায় এনআইএ।

এনআইএ এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধৃত চিকিত্‍‌সকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে এনআইএ’র বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে। এরপর হেফাজতে নিয়ে আরও কয়েক দফায় তাকে জেরা করা হবে।

বেঙ্গালুরুর এমএস রামাইয়া মেডিক্যাল কলেজের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জ-ঙ্গি সংগঠন আ’ইএসপিকে’র সঙ্গে ডাক্তার আব্দুর রহমানের জড়িত থাকার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার নিন্দাও করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত চিকিত্‍‌সক চক্ষু বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র। বেঙ্গালোর মেডিক্যাল কলেজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে ২০১৪ সালে এমবিবিএস পাশ করে, সরকারি কোটায় ২০১৭ সালে এমএস রামাইয়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়। গত জুলাইতেই সে এমএস অ’প’থ্যা’লমোলজির লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে।

Reply