জাপানের সঙ্গে সামরিক চুক্তির পথে ভারত, আরও কোণঠাসা লালচিন

একে একে নিভিছে দেউটি। এমনই অবস্থা এখন চিনের। ভারতের সঙ্গে শত্রুতা করার ফল এক এক করে পাচ্ছে বেজিং। এবার ভারতের আরও কাছাকাছি জাপান। চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে আগামী মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেই সামরিক চুক্তি করবে এই দুই বন্ধু রাষ্ট্র।

সেপ্টেম্বর মাসে শুরুর দিকেই বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের।

এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়াও জাপানের কিছু পণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারতে ব্যবসা স্থানান্তরিত করতে পারে। সাউথ ব্লক জানাচ্ছে এর আগে দু দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক করার কথা ছিল অক্টোবর মাসে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নজরে রেখে সম্ভবত ১০ই সেপ্টেম্বর এই বৈঠক হবে। এই বৈঠক মূলত হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গুয়াহাটিতে।

কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সেসময় উত্তপ্ত ছিল অসম। ফলে ভেস্তে যায় বৈঠকের পরিকল্পনা। উল্লেখ্য দুই দেশই চিনের আগ্রাসনের শিকার। একদিকে ভারতের পূর্ব লাদাখ সীমান্তের চিনা সেনার বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে জাপানের সেনকাকু দ্বীপে চিনা নৌবাহিনীর আগ্রাসন।

ফলে দুই দেশই রীতিমত ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে ভারত জাপানের বৈঠকে উঠে আসবে চিনের আগ্রাসী মনোভাব ও সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার চিনের আগ্রাসন নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে জাপান। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) স্থিতাবস্থার যে কোনও পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষণা করেছিল টোকিও।

এছাড়া সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ভারত সরকারের নীতির প্রতিও সমর্থন জানায় জাপান। জাপানের রাষ্ট্রদূত জানিয়ে ছিলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় চিন ও ভারতের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে টোকিওকে অবহিত করেছে দিল্লি। এদিকে, মালাবার নৌ মহড়ায় যোগ দিয়ে ভারতের শক্তিবৃদ্ধি করেছে জাপান।

সেক্ষেত্রে পূর্ব লাদাখে ভারতের সঙ্গে চিনের যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে, তাতে সেই স্নায়ুযুদ্ধের লড়াই মানসিক দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ভারত বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ভারত মহাসাগরে এই নৌ মহড়া শুরু হয় ১৯৯২ সালে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক চুক্তি দিয়ে। পরে ২০১৫ সালে এতে যোগ দেয় জাপান।

Reply