জেনে নিন কী ভাবে গণেশ পুজো করলে আপনার জীবনে আসবে সমৃদ্ধি

প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে পশ্চিম ভারতে মহা ধূমধামের সঙ্গে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। এই বছর গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ২২ অগাস্ট। হিন্দুধর্মে গণপতি বাপ্পার পুজোর বিশেষ মাহাত্ম রয়েছে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে গণেশের পুজো বিধেয়৷ পঞ্জিকা অনুযায়ি শুভ সময় থাকছে বেলা ১.৪২ অবধি৷ উৎসবের তিথি শুরু হচ্ছে রাত ১১.০২ এ, আর শেষ হচ্ছে ২২ তারিখ সন্ধ্যা ৭.৫৭ এ৷গণেশ চতুর্থী-পশ্চিম ভারত ও মধ্য ভারতের এই দারুণ জনপ্রিয় উৎসব এখন শুধু সেই ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে সারা ভারতেই ছড়িয়ে গেছে৷

যেহেতু গণেশ সিদ্ধিদাতা তাই তাঁর অর্চনাতে খামতি রাখতে চান না কেউই৷ বিশেষত এই অস্থির সময়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজকর্ম সবকিছুই একটা অদ্ভুত অস্বস্তি৷ ভক্তিভরে অর্চনা করলে রাস্তায় থাকা পাহাড় প্রমাণ বিপদও টলে যায় –এমনটাই মনে করেন বিশ্বাসী ভক্তকূল৷ তাই চতুর্থীতে মহাসমারোহে পুজো করার আগে জেনে নিন কী ভাবে গণেশ পুজো করলে আপনার জীবনে আসবে সমৃদ্ধি। গণেশ খুবই অল্পে তুষ্ট হন, কিন্তু তিনি যখন আশীর্বাদ করেন তা একদম উপচে যায় ৷

গণেশ পুজোর বিবিধ মন্ত্র রয়েছে তবে যে মন্ত্রটি না বললেই নয় তাহল ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ বা ‘ওঁ গাং গণেশায় নমঃ ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ বা ‘ওঁ গাং গণেশায় নমঃ, এছাড়া বলতে হয় একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।অর্থাৎ, যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।কেমন করে শুরু গণেশ চতুর্থীর- হিন্দু শাস্ত্রে এর উল্লেখে আখ্যান রয়েছে৷ তা অনুযায়ি চাঁদ গণেশ চতুর্থী উদযাপন করেছিলেন। চাঁদ তাঁর সৌন্দর্যে খুব গর্বিত ছিলেন এবং গণেশের, বিশেষ আকৃতি দেখে তিনি খুব ঠাট্টা করেছিলেন। এর পরে গণেশ তাঁকে অভিশাপ দিলেন।

চাঁদ তখন অনুশোচনা করেছিলেন এবং গণেশের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। গনেশ তাঁকে শাপ মুক্ত করার জন্য পূর্ণ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে চতুর্থীতে উপবাস করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সময় চাঁদই প্রথম গণেশ চতুর্থী পালন করেছিলেন। গণেশ পুজো করার জন্য ভোরে উঠে স্নানের পরে সূর্য দেবের উদ্দেশ্য জল উৎসর্গ করতে হয়। এখন যা পরিস্থিতি তাতে মন্দিরে না যাওয়াই ভালো৷ বাড়ির ঠাকুর ঘরে যে প্রতিষ্ঠিত গণেশের মূর্তিটি রয়েছে তার পুজো করুন।

গণেশ মূর্তির পা স্পর্শ করে অভিষেক করুন, তারপর উপাসনা করুন। গণেশকে ফুল এবং দুর্ব্বা অর্পণ করুন৷ গণেশ দেবের অর্চনায় পাঁচ সংখ্যাটি খুবই পবিত্র৷ তাই দুর্বা পাঁচটি দিন৷ আর তিনি জবা ফুল খুব পছন্দ করেন, তাই তাঁকে জবা ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন৷এটা নিয়মিত গণেশ পুজোর বিধি৷ তবে চতুর্থীর বিশেষ পুজোর জন্য আরও বিশেষ কিছু রীতি মানতেই হয়৷ সেদিন উপরিউক্ত নিয়মগুলি পালন করতেই হয়৷ তাছাড়া পাঁচ ব্রাহ্মণকে পারলে ফল, মিষ্টান্ন, পৈতে দান করতে হয়৷

এদিন কয়েকটি জিনিস একেবারেই করতে নেই৷ সেগুলির মধ্যে চতুর্থীতে চন্দ্র দর্শনের আগে খাদ্য গ্রহণ করতে নেই। এই উপবাস চলাকালীন দিনের বেলায় ঘুমানো উচিত নয়। চন্দ্র দর্শন শেষে, নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়। এই দিন কড়াভাবে ব্রহ্মাচার্য পালন করা উচিত। স্বামী-স্ত্রীর একই বিছানায় ঘুমানোও উচিত নয়।

Reply