নীতিশেই ভরসা, জোট বেঁধে ‘আত্মনির্ভর বিহার’ গড়ার লড়াইয়ে বিজেপি

বিহার নির্বাচনের আগে জোর কদমে কাজে লেগে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবার আত্মনির্ভর বিহার গড়তে দুই এনডিএ দলের সঙ্গে জোট বাঁধল বিজেপি। এলজিপি-জেডিইউয়ের সঙ্গে জোট বেঁধে বিধানসভা নির্বাচনে লড়বে গেরুয়া শিবির। নীতিশ কুমারের নেতৃত্বে লড়াই করবে বিজেপি।

রবিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এমন ঘোষণা করেছেন। মোদী সরকারের আত্মনির্ভর হওয়ার বার্তা নিয়েই এইবার লড়বে বিজেপি। বিহার নির্বাচন লড়ার নতুন স্লোগান- “বিজেপি হ্যা তইয়ার, আত্মনির্ভর বিহার”। নাড্ডা সাফ ভাষায় জানিয়ে দেন যে বিহারের নির্বাচনে এলজেপি ও জেডিইউয়ের সঙ্গে চেনা ছকেই তাঁরা এগোবেন।

পাসওয়ান ক্যাম্প গত কয়েদিন ধরেই বিহার নির্বাচনের জমি তাতিয়ে বিজেপির বিরোধিতার সুর ধরলেও তাকে কার্যত গুরুত্ব দিতে চাইছেন না সভাপতি। বিহার নির্বাচনে বিজেপি থেকে নয়, বরং জেডিইউ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে সামনে রাখা হবে বলে এদিন অবস্থান স্পষ্ট করে বিজেপি।

এদিন ভোট প্রচারে জোট বার্তার ফাঁকেও মোদীর প্রশংসা করতে ভোলেননি নাড্ডা। মোদীর দেখানো পথে হাঁটতে চলেছেন সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং বিজেপির বিহার নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং রাজ্য ইনচার্জ ভূপেন্দ্র যাদব পাটনায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। পরের সপ্তাহেই এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে জোট অঙ্কে শেষ মুহূর্তে প্রবল সংকটে পড়ে মসনদ হাতছাড়া করেছে বিজেপি। সেই একই ভুলের রাস্তায় না গিয়ে , এবার বিজেপির মরিয়া চেষ্টা বিহার। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের নির্বাচনে খুব একটা ভাল করতে পারেনি বিজেপি। কয়েক মাস আগেই বিহার লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের ভোটে বিজেপির সরকার পড়ে গিয়েছে।

তা ছাড়া রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, এবারের বিহারের ভোট জেপি নাড্ডার কাছেও প্রেস্টিজ ফাইট। তার কারণ নাড্ডাও বিহারেরই ভূমিপুত্র। তিনি বিজেপি সভাপতি হওয়ার পর এই প্রথম কোনও রাজ্যের বিধানসভা ভোট হতে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃ’ত্যুর তদন্ত নিয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বলতে পারেন দেবেন্দ্র। তাই সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। বিহার ভোটে অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু। তাই রাজনৈতিক ভাবে বিহারের ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকের।

Reply