এবার পর্দা সরিয়ে আসল তথ্য বাইরে আনুন, আবারো মমতা কে তোপ দাগলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকাড়

পিপিই কিট, মাস্ক, গ্লাভস–সহ ক’রো’না চিকিৎসায় ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা নিয়ে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই দুর্নীতিকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তো’প দাগলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। শুক্রবার রাজ্যপাল টুইট করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ জানিয়েছেন।

রাজ্যজুড়ে ক’রো’না সং’ক’টে’র চরম মুহুর্তে চিকিৎসা সামগ্রী কিনতে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অভিযোগ করে জাগদীপ ধনকর টুইট করে লেখেন,”যে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা সত্যকে আড়াল করার প্রচেষ্টা মাত্র। কেবলমাত্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরাধীদের ধরতে পারবে”।

ক’রো’না চিকিৎসায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনাতেও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে লেখেন, “এবার পর্দা সরিয়ে আসল তথ্য বাইরে আনুন। আর্থিক অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট কয়েকজনের লাভবান হওয়ার খবরে বিরক্তি বোধ করছি।”

অন্য আরেকটি টুইটে রাজ্যপাল লেখেন,”কেনাকাটার কাটমানি কোথায় গেল? কে বা কারা লাভবান হলেন? সেটা খোঁজাই তদন্তের একমাত্র কাজ হওয়া উচিত। ক’রো’না চিকিৎসার সরঞ্জাম ক্রয়ের হিসাব, কোথা থেকে কেনা হয়েছে, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। স্বচ্ছতার অভাবেই দুর্নীতির জন্ম।”

ওই সময় নিয়মের বাইরে গিয়ে ওই কিছু এজেন্সি থেকে ওষুধ কেনা হয়েছিল। যার গুণমান খারাপ ছিল। সম্প্রতি একথা মুখ্যমন্ত্রীর কানে পৌঁছানো মাত্রই তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে তারা প্রধান সচিবকে একটি রিপোর্ট জমা দেবেন।

এ ব্যাপারে আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক আধিকারিক জানান, মহা’মা’রী মোকাবিলার জন্য গত কয়েক মাসে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ বহু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনেছে। আর তাতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেই টাকা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

রাজ্যপালের এই দুইটার কথা জানতে পেরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্যি যদি কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকে তার রিপোর্ট আসার সাথে সাথে জনসমক্ষে পেশ করা হবে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘”রাজ্যপাল যা অভিযোগ করছেন তা কি তিনি প্রমাণ করতে পারবেন? তাঁর এই বেপরোয়া বক্তব্যগুলি আসলে তিনি যে পদে রয়েছেন তার মর্যাদা কমিয়ে দিচ্ছে।”

Reply