পুজোর প্রস্তুতিতে ভার্চুয়াল মিটিং, ভিড় কমানোই লক্ষ্য

দুর্গাপুজোর ঠিক দু’মাস বাকি। আর করোনাকালে এ বারের পুজোয় প্রতিমার উচ্চতা কত হবে, মণ্ডপে দর্শক ঢুকতে দেওয়া হবে নাকি হবে না, তা নিয়ে বাড়িতে বসেই রবিবার দুপুরে ভার্চুয়াল মিটিং সেরে ফেলল কলকাতার বহু পুজো কমিটি। তবে অন্যান্য বার পুজোর আগে যে ব্যস্ততা এই সময়ে তাঁদের থাকে, তা অনেক বারোয়ারি পুজো কমিটির সদস্যদের এ বার নেই।

তবে গণেশ পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় শোনার পর পুজো কমিটিগুলির একাংশ সরকারি ঘোষণার আশায় বসে থেকে সময় নষ্ট করতে নারাজ। যেমন, দমদম পার্কের তরুণ দল। এ দিন অনলাইনে কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। সেখানে ঠিক হয়েছে, মণ্ডপের ভিতরে এ বার কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দমদম পার্কের মাঠে আয়োজিত এই পুজো রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়ে দেখবেন দর্শকরা। মাঠের চারপাশ ঘিরে দেওয়া হবে ব্যারিকেড দিয়ে। দোকান বসতে দেওয়া হবে ৮ ফুট ব্যবধানে। তবে ফুড স্টলগুলিতে বসে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। ওই পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ প্রসাদ বলছেন, ‘গণেশ পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণে রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এমনই নিয়ম দুর্গাপুজোয় হবে বলে মনে হচ্ছে। তাই, আমরা ঠিক করেছি, মণ্ডপে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’

এ দিনই বাগুইআটি দেশবন্ধু নগরের সুভাষ সঙ্ঘ ক্লাব আবার পুজোর খরচ বাঁচিয়ে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যাঙ্কের উদ্বোধন করেছে। সেখানে রাখা হয়েছে পাঁচটি অক্সিজেন সিলিন্ডার। ক্লাবের তরফে সৌরভ দেবনাথ জানান, যে সব করোনা রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন, তাঁদের বাড়িতে এই সিলিন্ডার পৌঁছে দেবেন ক্লাবের সদস্যরা।

দক্ষিণ কলকাতার মুদিয়ালি ক্লাবের কর্মকর্তারা এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে ঠিক করেছেন, প্রতিমার উচ্চতা অন্যান্য বারের মতো বেশি থাকলেও মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরোনোর জন্য দু’টি গেট করা হবে আর দু’টিতেই বসবে স্যানিটাইজার ট্যানেল। পাশাপাশি, থাকবে থার্মাল গ্যান দিয়ে দর্শকদের তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থা। ওই পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা মনোজ সাউ বলছেন, ‘প্রাথমিক প্ল্যানিং অনেকটাই করা হয়েছে। ভিড় কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটা আমরা সরকারি ঘোষণা দেখে ঠিক করব।’

দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা সম্মিলনীও এ দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে ঠিক করেছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই মণ্ডপে লোক ঢোকানো, ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়গুলি ঠিক করা হবে। পুজো কমিটির তরফে লাল্টু মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘রবিবার আমরা পুজো নিয়ে প্রাথমিক কিছু আলোচনা করেছি।’

দর্শক টানার নিরিখে ফি বছরই দক্ষিণের সঙ্গে টক্কর দেয় লেক টাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো। ওই পুজোর প্রধান আয়োজক, রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর কথায়, ‘পুজোয় এ বার জাঁকজমক কম হবে। ফলে, বেশি পরিকল্পনার দরকার হচ্ছে না। আর সরকার যে ভাবে গাইডলাইন দেবে, সেই ভাবেই পুজো হবে।’

দক্ষিণের অন্যতম বড় পুজো সুরুচি সঙ্ঘর কর্মকর্তা স্বরূপ বিশ্বাসের কথায়, ‘আমাদের অনেক বড় মাঠ আছে। ফলে, দূরত্ব বিধি রক্ষায় সমস্যা হবে না। সরকার বিধি ঘোষণা করলে সেই মতো সমস্ত ব্যবস্থা করব।’ দেশপ্রিয় পার্কের পুজোর ভিড় সামলাতে ফি বছর হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সেই পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা এখনও পর্যন্ত পুজোর পরিকল্পনা শুরু করেননি। পুজো কমিটির সভাপতি সুদীপ্ত কুমার বলছেন, ‘এ বার যা পরিস্থিতি, তাতে বেশি লোক আসুক, সেটা আমরা চাইছি না। আর সরকারি ঘোষণা না-দেখে প্ল্যানিং করা ঠিক হবে না।’

পরিকল্পনা এখনও হয়নি বলে ব্যস্ততাও অন্যান্য বছরের মতো নেই। উত্তর-মধ্য কলকাতার অন্যতম বড় পুজো বলে পরিচিত, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো কমিটির তরফে প্রদীপ ঘোষও করোনার প্রসঙ্গ টেনে এ দিন বললেন, ‘অন্যান্য বারের মতো ব্যস্ততা এ বার আমাদের নেই।’

Reply