হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীর নজরদারিতে এআই…

মধ্যরাত্রি ছুঁইছুঁই। হোম আইসোলেশনে থাকা ৬২ বছরের কোভিড আক্রান্ত মহিলা গভীর ঘুমে ডুবে। হঠাৎই পরিজনের কাছে চিকিৎসকের ফোন। রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমছে। হাতে লাগানো নজরদারির যন্ত্র ঠিকমতো আছে কি না, তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। যন্ত্র ঠিক আছে নিশ্চিত হওয়ার পরও দেখা যায়, রোগিনীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৯১-৯২ শতাংশে ঘোরাফেরা করছে। দ্রুত ওষুধের ব্যবস্থা করে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। আপাতত দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছেন ওই বৃদ্ধা।

কিন্তু হোম আইসোলেশনে থাকা এক রোগীর শরীরে ঘুমের ঘোরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসছে, সেটা কী ভাবে বুঝলেন চিকিৎসক? এর পিছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই)। ভারতের ডিপার্টমেন্ট অফ বায়োটেকনোলজি, বিল-মেলিন্ডাগেটস ফাউন্ডেশন, কোয়ালকোমের মতো সংস্থার সহযোগিতায় দুই আইআইটি গ্র্যাজুয়েটের তৈরি করা স্বাস্থ্যে নজরদারির সংস্পর্শ-বিহীন যন্ত্র ‘ডোজি’ ব্যবহার করে আপাতত হোম আইসোলেশন এবং সেফ হাউসে থাকা রোগীদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে ওই হাসপাতাল গোষ্ঠী। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবাশিস ধর বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক রোগীই হোম আইসোলেশন বা স্যাটেলাইট ইউনিটে থাকতে চাইছেন। সেই সমস্ত উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্যই এই যন্ত্র। এখনও পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি রোগীকে ডোজির মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে সুস্থ করে তোলা গিয়েছে।’

ওই হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিসিনের চিকিৎসক কুমার রাজ বলেন, ‘এই যন্ত্রের মূল হল একটি পাতলা চাদরের মতো অংশ। করোনা আক্রান্তের চাদর বা ম্যাট্রেসের নীচে যেটা পেতে দেওয়া হয়। এবং রোগীর হাতে যুক্ত করে দেওয়া হয় একটি চ্যানেল। এই পাতলা চাদরটি আদতে ‘সেন্সর’। যা ব্যালিস্টোকার্ডিয়োগ্রাফি প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীর নড়াচড়ার মাধ্যমে তাঁর হার্টরেট, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা, রিকভারি রেটের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তা পাঠিয়ে দেয় ডোজি অ্যাপে।’ তিনি জানান, কোনও করোনা আক্রান্তের হার্টরেট বা অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করলে চিকিৎসকের মোবাইল অ্যাপে তৎক্ষণাৎ অ্যালার্ম বাজবে। তিনি দেখতে পাবেন রোগীর সেই মুহুর্তের প্যারামিটার্স।

রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকরী হতে পারে এই প্রযুক্তির ব্যবহার? ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ অরিন্দম কর বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে রোগী দেরিতে পৌঁছলে। সেখানে কোনও প্রযুক্তির ব্যবহার করে রোগীকে যদি হাসপাতালের মতোই মনিটর করা সম্ভব হয়, তাহলে তো ভালো।’

Reply