প্যাংগং থেকে সেনা সরাতে হবে ভারতকেও, অন্যায় আবদারে মুখের উপর প্রত্যাখ্যাত লাল চিন

লাইন-অফ-অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল নিয়ে বিবাদের মাঝেই প্যাংগং-লিপুলেখ নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে লাল চিন। নতুন নতুন বাহানা আনছে চিন সেনা। তাই এবার চিনের বাড়াবাড়ি না মেনে দাবি অস্বীকার করেছে ভারত।

সরকারী সূত্রে খবর ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাত মিটিয়ে ফেলতে, “প্যাংগং লেকে সমান সমান জায়গা ছারবে ভারত ও চিন সেনা”, এমন দাবি জানানো হয়েছিচিনের তরফে। তবে তা কোনওভাবেই মানেনি ভারত। কারণ ‘নিজের জন্যই নিজের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে’।

বাফার জোন তৈরির জন্য দুই দেশই সমান জায়গা ছাড়বে এবং চিন ফিংগার অঞ্চলেই এই বিতর্কের সমাধান করে নিতে চায়, এমনটা জানিয়েছিল চিন সেনা।

ভারত ফিংগার ফোর এবং ফিংগার ফাইভ অঞ্চল থেকে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে সম্পূর্ণ সেনা সরানোর পরামর্শ দিয়েছিল তবে চিন তাতে রাজি হয়নি। তাঁরা চায় দু’জনেই সরে যাক যাতে ভারতকে নিজের এলাকা ছেড়ে দিতে হবে।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে প্যাংগং লেকে এই প্রথম চিনের সঙ্গে বিবাদ বাঁধে ভারতের। প্যাংগং লেক ও বিতর্কিত এলাকা গোগরা হট স্প্রিংয়ে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল লাগিয়েছে চিনা সেনা। এই নিয়েই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না চিনা সেনা পুরোনো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কুগ্রাং নদীর তীরেই অবস্থান করবে ভারতীয় সেনা। এক পাও পিছু হটবে না তারা।

তবে চিনা সেনার আকাশ পথে নজরদারি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে লাদাখে। লাদাখ ও অধিকৃত আকসাই চিনে যেভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছে চিনা সেনা, তা নজরে পড়েছে ভারতের। ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে লাদাখের ১৫৯৭ কিমি সীমান্তে অবস্থান করছে পিএলএ। একাধিক বৈঠক, আলোচনা সত্ত্বেও পিছু হঠেনি চিনা সেনা, যা বিরক্তি বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই কাজ করছে চিনা সেনা, যাতে উসকানি দেওয়া যায়। তবে ধৈর্য রাখছে ভারত। আলোচনার সব রাস্তাই খোলা রাখা হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। লাদাখে পিএলএ-র মুভমেন্টের পিছনে পূর্ণ সমর্থন ও হাত রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্ট জিংপিংয়ের।

চিন দাবি করেছে সীমান্তে যেন স্থিতাবস্থা বজায় থাকে। শান্তি বজায় রাখা দুই দেশেরই দায়িত্ব বলে জানিয়েছে বেজিং। সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখলে তবেই দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে জানানো হয়েছে চিনের পক্ষ থেকে। তবে চিনের কথা ও কাজে বিস্তর ফারাক। সীমান্ত সংঘাতের তিনমাস কেটে গেলেও লাগাতার সেনাশক্তি দেখানো তাই নয় অস্ত্রশক্তি প্রদর্শন করে বারবার তা বুঝিয়ে দিচ্ছে লাল ফৌজ।

Reply