ভারতীয় সীমানা থেকে মাত্র ৯০ কিমি দূরে চিনের মিসাইল, পালটা প্রস্তুতি ভারতের

মাউন্ট কৈলাসে নতুন করে সেনা সাজাচ্ছে চিন। সূত্রের খবর সেখানে কৈলাসের কাছেই সারফেস টু এয়ার মিসাইল বা এসএএম মোতায়েন করেছে চিনা সেনা। এরই সঙ্গে বেশ কিছু নতুন ঘাঁটিও তৈরি করা হয়েছে বলে খবর। বেশ কিছু উপগ্রহ চিত্র এসে পৌঁছেছে ভারতের হাতে।

এই উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে গত এপ্রিল মাস থেকে কৈলাস পর্বতের কাছে যে ঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু করেছিল চিন, তা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখানেই আপত্তি ও বিতর্ক উঠেছে। কৈলাস মানসসরোবর হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান, এখানে প্রতি বছর তীর্থ করতে আসেন হিন্দু পুণ্যার্থীরা। সেখানে মিসাইল মোতায়েন করে গোটা এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে কার্যত হিন্দুদের অপমান করছে বেজিং বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক ভারত চিন সংঘাতের জেরে সীমান্ত জুড়ে একাধিক সেনা ছাউনি নজরে এসেছে দুদেশেরই। পূর্ব লাদাখে সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়েছে লিপুলেখ, কালাপানি এলাকাতেও। লিপুলেখ পর্যন্ত ভারতের রাস্তা তৈরির কাজ নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যের সম্পর্কের উত্তাপ বাড়িয়েছে।

নেপালের দাবি বিতর্কিত এলাকায় রাস্তা তৈরি করে সংঘাতের শুরু করেছে ভারতই। উল্লেখ্য লিপুলেখ পাসের উচ্চতা ১৭,০৬০ ফুট। নেপালের দাবি গোটা এলাকাই তাদের আন্তর্জাতিক সীমানা। অথচ ভারতের তৈরি ৮০ কিমি লম্বা রাস্তা তৈরির মূল কারণ কৈলাস তীর্থযাত্রীদের তীর্থযাত্রাকে আরও সহজ করে দেওয়া। মাউন্ট কৈলাস, মানসসরোবর, রাক্ষসতাল ও গৌরি কুন্ড এই চারটি দর্শনীয় স্থানেই এখন যুদ্ধের প্রস্তুতি।

ফলে গোটা এলাকার ধর্মীয় আবহ নষ্ট করে দিয়েছে সামরিক রণসজ্জা বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। যেখানে মিসাইল মোতায়েন করা হয়েছে, সেখানকার ছবি তুলেছে উপগ্রহ। ১৬ই অগাষ্ট তোলা ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি এলাকা ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। অর্থাৎ সেখানে ঘাঁটি তৈরি করেছে চিনা সেনা।

এই মিসাইল মোতায়েন করার এলাকা ভারতীয় সীমানা থেকে ৯০ কিমি দূরে বলে খবর। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা মাঝারি মানের মিসাইলই এই পথ অতিক্রম করে ফেলতে পারবে। তবে চিনের এহেন কার্যকলাপের মধ্যে চুপ করে বসে নেই ভারতও। বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

প্রতি মুহূর্তের আপডেটের উপর নজর ভারতীয় সেনাবাহিনীর। চিনের এহেন পদক্ষেপের পর পালটা ওই এলাকায় রণসজ্জা সাজানোর ব্যবস্থা ভারতের।

প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালের পর থেকে এই এলাকা তীর্থযাত্রার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেই শুল্ক নিয়ে তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করা হয় হিন্দু যাত্রীদের জন্য। কিন্তু চিনের বাড়বাড়ন্ত ও সীমানায় আগ্রাসনের মনোভাব এখন কৈলাস পর্বত এলাকাতেও পৌঁছেছে। ফলে সংঘাত যে আরও অনিবার্য হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।

Reply