চিনের লাগাতার হুমকির মাঝেই মিলিটারি শক্তিপ্রদর্শন করল তাইওয়ান

প্রতিমুহূর্তে হুমকি দিচ্ছে, চাপ বাড়াচ্ছে লাল চিন। লাগাতার দখলের হুমকি দিচ্ছে চিন। অদূর ভবিষ্যতে হংকংয়ের মতো পরিণতি হতে পারে তাদেরও। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে শক্তি প্রদর্শন করল তাইওয়ান।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে চিন আক্রমণ করলে সেক্ষেত্রে সেনা, অ্যান্টি-ক্র্যাফট, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল কিভাবে ছোঁড়া হবে সেই ছবি তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করার সময়, চিনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাইওয়ান জানিয়েছে, পরে এই দ্বীপরাষ্ট্রের নিজেকে বাঁচানোর ক্ষমতা দেখে তাঁদের যেন কেউ ছোট না করে। বারবার বলা হয়েছে চায়না লিবারেশন আর্মির উসকানিমূলক কাজ কোনওভাবেই কাজে লাগবে না।

উল্লেখ্য, দ্বীপের কাছাকাছি সেনা মোতায়েন করেছে লাল চিন। ১.৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট বৃদ্ধি করেছে তাইওয়ান। ইতিমধ্যেই তাইওয়ানের মাটিতে মিলিটারি কার্যকলাপ বাড়িয়েছে চিন।

চিন-তাইওয়ান সীমান্তবর্তী তাইওয়ান প্রণালীর উপরে বেশ কয়েকটি চিনা যুদ্ধবিমানকে ঘুরতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্যসচিব অ্যালেক্স আজ়ারের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাইওয়ানের বিদেশমন্ত্রী জোসেফ উ। চিনের চোখরাঙানির শিকার হতে হচ্ছে এবিষয়ে আগে থেকেই সুর চড়াচ্ছিল তাইওয়ান। মার্কিন স্বাস্থ্যসচিবের সফরকে ভালো চোখে দেখেনি চিন।

১৯৭৯ সালের পর থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখেনি আমেরিকা। তৎকালীন পরিস্থিতিতে চিনের পক্ষ নিয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছিল তারা। তবে ইদানিং চিন-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতির পরে সেই ছবি বদলে গিয়েছে। তাইওয়ান চিনেরই অংশ বলে বরাবরের দাবি বেজিংয়ের।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত কয়েক মাস ধরেই এ অঞ্চলে সামরিক হুমকি বাড়িয়ে চলেছে চিন। তারা তাইওয়ান দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা জোরদার করছে, এমনটাই অভিযোগ করা হচ্ছে তাইপেইয়ের তরফে। কয়েকদিন আগে সাফ হুমকি দিয়ে চিন জানিয়েছে, তাইওয়ান দখল করবে লালফৌজ।

উল্লেখ্য, চিন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময়ে চিন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও জেদংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা চিয়াং কাই শেকের জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ান যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে তাইওয়ানকে চিনের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব এবং সামরিক হুমকির মোকাবিলায় মার্কিন স্বাস্থ্যসচিবের সফরের ঠিক পরেই প্রতিরক্ষাখাতে একধাক্কায় ১০ শতাংশ বরাত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাইওয়ান। সেই শক্তি প্রদর্শন করল লাল চিন।

Reply