‘ইচ্ছে করেই ভারতের কাছে ২০১১ বিশ্বকাপ হেরেছিল শ্রীলঙ্কা’, বললেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী

হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দ আলুথগামাগে। লঙ্কার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী বলছেন, ইচ্ছে করেই ভারতের কাছে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি হেরে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ২ এপ্রিল ২০১১। ছয় উইকেটে সাঙ্গাকারার দলকে হারিয়ে দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে এসেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। টার্গেট ছিল ২৭৫ রানের। শেষ বলে ছক্কা মেরেই জয় নিশ্চিত করেছিলেন মাহি।

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল অবধি শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন মাহিন্দানন্দ। অর্থাৎ বিশ্বকাপ যে বছরটা খেলা হয়েছিল, সে বছরেও তিনি ছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী। বর্তমানে তিনিই সে দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি দফতরের মন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন। বলছেন, “সেই সময়ে রহস্য ফাঁস করতে চাইছিলাম না।”

মাহিন্দানন্দের কথায়, “২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি গড়াপেটা হয়েছিল। আমি যা বলছি, খুব ভেবে চিন্তেই বলছি। ঘটনাটা যখন ঘটেছিল, তখন আমি ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলাম।” কিন্তু কী ভাবে এমনতর হাওয়ায় ভাসানো দাবি? সপক্ষে প্রমাণ? প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর কথায়, “আমার দেশের কথা ভেবে, এই বিষয়ে এর থেকে বেশি আর কিছুই বলতে পারব না। ২০১১ সালে সে দিন ভারতের বিরুদ্ধে আমরা চাইলেই জিততে পারতাম। খুব দায়িত্ব নিয়েই বলছি, এই বিষয়ে কোনও বিতর্কেও বসতে রাজি আছি। দেশের মানুষ এই ব্যাপারটা জানেন। এর মধ্যে আমি ক্রিকেটারদের জড়াতে চাই না।”

২০১১ সালের সেই দিনটা নিয়ে শ্রীলঙ্কা পরপর দু’বার ফাইনাল হেরেছিল। তার ঠিক চার বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনাল হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০১১ সালের শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক অর্থাৎ কুমার সাঙ্গাকারা বলছেন, এই ধরনের অভিযোগ তোলার আগে বিষয়টা খোলসা করে বলা উচিত। তবে এর আগে সে দিনের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে গড়াপেটার অভিযোগ উঠতে, দুই দলেরই প্লেয়ারেরাই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

সাঙ্গাকারা বলছেন, “এটা খুবই গুরুতর অভিযোগ। তিনি যখন বলছেন, তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে, তাহলে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন শাখায় বিষয়টির সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো উচিত। তবেই পরিষ্কার হবে, মন্ত্রী ঠিক বলছেন নাকি ভুল।” যদিও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মাহিন্দানন্দই এই অভিযোগ একা করলেন এমনটা নয়। এর আগেও শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক অর্জুন রণতুঙ্গা ২০১৭ সালে ঠিক এই একই অভিযোগ করেছিলেন। মাহেলা জয়বর্ধনে সেই ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে শ্রীলঙ্কাকে ২৭৫ রানের গণ্ডিতে পৌঁছতে সাহায্য করেছিলেন। ভারত ব্যাট ধরে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেললেও বিরাট কোহলি এবং গৌতম গম্ভীর কিছুটা সামলে নেন। তারপরে গৌতম এবং ধোনি দুজনে চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের একটা লম্বা পার্টনারশিপ তৈরি করেন। শেষমেশ যুবি এবং ধোনির যুগলবন্দির সুবাদেই ম্যাচ দিতে নেয় ভারত।

২০১৭ সালে রণতুঙ্গা দাবি করেছিলেন, “সে সময়ে আমি ভারতেই ছিলাম। ফাইনালের দিন ধারাভাষ্যও দিয়েছিলাম। যখন আমরা হেরে গেলাম খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। কিন্তু মনে একটা খটকা যেন লেগেইছিল সে দিন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কী হয়েছিল, তা আমাদের তদন্ত করা উচিত। আমি এখনই সব বলতে পারব না। কিন্তু একদিন মুখ খুলবই।”

Reply