যুদ্ধবিমান নিয়ে ‘কাজিয়া’, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করল আমিরশাহী…

চলতি মাসেই কয়েক দশকের বিবাদ ভুলিয়ে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। কিন্তু মার্কিন পৌরহিত্যে হওয়া ওই চুক্তিও আরব দুনিয়া ও ইহুদি দেশটির মধ্যে থাকা ফাটল জুড়তে সক্ষম নয়, তা ফের একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। সূত্রের খবর, সোমবার, মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের বিক্রি সংক্রান্ত কাজিয়ার জেরে ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করে দেয় আবু ধাবি।

এই কাজিয়ার সূত্রপাত অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে। পেন্টাগন সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমানটি কিনতে আগ্রহী সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে আমিরশাহীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী মাস ছয়েকের মধ্যে এই মর্মে চুক্তি হতে পারে। আজকের দিনে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান বলে গণ্য করা হয় এফ-৩৫ প্লেনটিকে।

এই বিমান হাতে পেলে ইজরায়েলী বায়ুসেনার সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা চলে আসবে আমিরশাহীর বিমান বাহিনীর কাছে। যা কিছুতেই চাইছে না ইজরায়েল (Israel)। ইহুদি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই অমিরশাহীকে এফ-৩৫ দেওয়ার বিরোধিতা করে এসেছেন। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অস্তিত্ব রক্ষায় বরাবর ইজরায়েলের সামরিক ক্ষমতা পড়শি আরব দেশগুলির চাইতে একধাপ এগিয়ে রাখার নীতি রয়েছে আমেরিকার।

এহেন পরিস্থিতিতে, আমেরিকা ও আমিরশাহীর মধ্যে এফ-৩৫ বিক্রি নিয়ে কোনও আলোচনার তথ্য তাঁর কাছে নেই বলে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। আর এতেই চটে লাল আবু ধাবি। দেশটি সাফ জানিয়েছে, শান্তিরক্ষার স্বার্থে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তারা। কিন্তু একতরফা পদক্ষেপে ইজরায়েল শর্ত ভঙ্গ করছে। তাই এই মুহূর্তে কোনও বৈঠকে বসা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরব দুনিয়ায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মার্কিন পৌরহিত্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করল ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। আর একযোগে ইরানকে ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ।এটি ইজরায়েলের সঙ্গে তৃতীয় কোনও আরব রাষ্ট্রের শান্তি চুক্তি। এর আগে মিশর ১৯৭৯ সালে এবং জর্ডন ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে। নয়া চুক্তি মোতাবেক, ইজরায়েলকে (Israel) একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।

প্রতিদানে প্যালেস্তাইনের ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এলাকা অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা বাতিল করবে ইহুদি দেশটি। উল্লেখ্য, কয়েক দশকের সংঘাতে ইতি টেনে মিশর ও জর্ডনের পর আরব দুনিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। এর ফলে এবার থেকে তেল আভিভের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে আবু ধাবি।

Reply