দিল্লিতে বাংলো আটকে রেখে এবার বড়সড় অস্বস্তিতে পড়তে চলেছেন তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদ?

ইউপিএর শাসনকাল শেষ হবার পর থেকেই বিরোধীদের মনে জমে আশঙ্কার কালো মেঘ। 2019 এর লোকসভা ভোটের আগে পর্যন্ত বিজেপির তরফ থেকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা পরোক্ষভাবে বলা হলেও সে অর্থে নোটিশ কিছু দেওয়া হয়নি। কিন্তু এবার পর পর এক এক করে বিরোধীদের বাড়ি ছাড়তে বলা হচ্ছে। সম্প্রতি কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এসপিজে নিরাপত্তা তুলে নিয়ে তাঁকে যেভাবে সরকারি নির্দেশে সাহায্যে তাঁর লোধী এস্টেটের বাড়িটি খালি করানো হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনো প্রবল চর্চা চলছে।

অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পরে কংগ্রেস, তৃণমূলশ বিরোধীদলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এমপি হতে চলেছেন বাড়ি ছাড়া। প্রিয়াংকা গান্ধী বাড়িছাড়া হতে না হতেই এবার রাজ্যসভার সদ্য প্রাক্তনদের ক’রো’না পরিস্থিতির মধ্যেই যেভাবে বাড়িছাড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি রাজ্যসভার সচিবালয় থেকে এ ব্যাপারে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হয়েছে একগুচ্ছ রাজ্যসভার এমপির। একইভাবে জুন মাসে অনেকেরই 6 বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদিকে ক’রো’না পরিস্থিতিতে গত 15 ই আগস্ট পর্যন্ত তাঁদের নিজেদের বাংলোতে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন রাজ্যসভার হাউজিং কমিটির চেয়ারম্যান তথা রাজস্থানের এমপি ওমপ্রকাশ মাথুর। কিন্তু 15 ই আগস্ট শেষ হবার পরেই এবার বাড়ি খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন দেশজুড়ে ক’রো’না পরিস্থিতি এখনোও যথেষ্ট ভয়াবহ। এই অবস্থায় বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক থাকছে।

সবমিলিয়ে জানা গেছে, 25 জন সদ্য প্রাক্তন এমপিকে দ্রুত সরকারী বাংলো ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এবং যাদের হাতে নোটিশ ধরানো হয়েছে তাদের মধ্যে তৃণমূলের তিনজন প্রাক্তন সাংসদ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন- যোগেন চৌধুরি, আহমেদ হাসান ইমরান এবং কনওয়ারদীপ সিং। রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে চলছে জোরদার জল্পনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি সরকার বিরোধীদের কিছু না বললেও এই মুহূর্তে নিয়মের মধ্যে দিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু করল। আপাতত এই ঘটনার ছাপ যে বাংলার রাজনীতিতে পড়তে চলেছে সে ব্যাপারে নিঃসন্দেহ সবাই।

Reply