হাসপাতালের বিল মেটাতে নাজেহাল সচিন-বিরাটদের ব্যাটমিস্ত্রী আশরাফ, পাশে দাঁড়ালেন সোনু সুদ!

তিনি থাকেন আড়ালে! কিন্তু সেই নিভৃতে থেকেই অনেক বড় কাজ করে চলে যান! ক্রিকেটারদের কাছে এমনই এক ভগবানের নাম আশরাফ চৌধরী। সচিন-বিরাট-রোহিতদের প্রিয় ‘আশরাফ ভাই’। ভারতীয় দলের ক্রিকেটারেরা তো বটেই, এমনকী অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব দলের প্লেয়ারদের জন্যই ‘আশরাফ ভাই’ একটা বড় নাম। ক্রিকেটারদের টুকটাক ব্যাট সাড়াইয়ের কাজ তিনি করে থাকেন। কিন্তু এহেন আশরাফ ভাই যখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, হাসপাতালের বিল মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন, পাশে দাঁড়াননি দেশের তাবড় ক্রিকেটারেরা। এগিয়ে এলেন সেই অভিনেতা সোনু সুদ। কখনও পরিযায়ী শ্রমিক তো কখনও আবার স্মার্টফোনের জন্য পড়াশোনা বন্ধ হতে বসা ছাত্রীর সব দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন সোনু সুদ। কী ভাবে আশরাফের ডাকেও তিনি সাড়া দিলেন, সেই কাহিনিই জেনে নেব। জেনে নেব আশরাফ সম্পর্কে আরও অজানা তথ্য।
​আশরাফ যাঁদের ভগবান –

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের খুব কাছেই থাকেন আশরাফ চৌধরী। তাই মুম্বইয়ের ক্রিকেটারেরা তো বটেই, এমনকী মুম্বইয়ের বাইরেও বহু ক্রিকেটারদের ব্যাট সারাইয়ের কাজ করে থাকেন আশরাফ ভাই। সেই তালিকায় যেমন সচিন তেন্ডুলকর, ওয়াসিম জাফর বা আকাশ চোপড়া থেকে বীরেন্দ্র শেওয়াগ, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা রয়েছেন। তেমনই আবার তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে হার্দিক পান্ডিয়া থেকে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারাও রয়েছেন। স্রেফ একটা ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়। আশরাফ পৌঁছে যান ক্রিকেটারদের দোরগোড়ায়।

​সারা বিশ্বের ক্রিকেটে সমাদৃত আশরাফ –

শুধু ভারতীয় ক্রিকেটারদের কথা বললে ভুল হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের ব্যাট যখনই খারাপ হয়, তখনই তিনি শরণাপন্ন হন মুম্বইয়ের আশরাফ চৌধরীর। আইপিএল তো বটেই। এমনকী ভারতে খেলতে এলেও আশরাফের সঙ্গে একবার দেখা করে যাবেনই গেইল। একবার তো কোনও সিরিজ ছিল না। ছিল না আইপিএলও। ব্যাট সারানোর অজুহাতে ভারতে এসে মুম্বইতে সোজা আশরাফের দোকানে চলে এসেছিলেন গেইল। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথও বেশ কদর করেন আশরাফের। তিনিও ব্যাটের খুঁটিনাটি সারাইয়ে আশরাফেরই সাহায্য নিয়ে থাকেন।

​ক্যারিবিয়ানদের দেবদূত আশরাফ –

একবার এহেন আশরাফ চৌধরীই গোটা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কী ভাবে? একবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সমস্ত ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করতে বাধ্য হয়েছিল সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। আর তা কিছুটা আর্থিক সংকটের কারণেই। মাথায় বজ্রপাতের উপক্রম হয়েছিল ক্রিস গেইল-সহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ারদের। কী ভাবে এই ধাক্কা সামলাবেন তাঁরা? আর এমনই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভারত থেকে আশরাফ চৌধরী নামের মানুষটি ১৬টি ব্যাট ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এমনকী কোনও টাকা তিনি প্রাথমিক ভাবে দাবি করেননি।

লকডাউনে ব্যাটের বিক্রিবাট্টা প্রায় নেই বললেই চলে। তারপরে এতদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্রিকেট। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে আবার দুবাইতে আইপিএল। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের অনতিদূরেই রয়েছে আশরাফের দোকান – ‘M Ashraf Bros’। সে দোকানও বন্ধ বেশ কিছু মাস ধরে। এরই মাঝে চূড়ান্ত শরীর খারাপ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ডাক্তারেরা জানান, আশরাফের কিডনিতে স্টোন রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তার অপারেশন করতে হবে। আশরাফেরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানান যে, ২ লক্ষ টাকা জোগাড় হলেও দরকার আরও অর্থের।

​কী বলছেন আশরাফের সেই বন্ধু –

আশরাফের এই সংকটের দিনে অর্থজোগাড়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর বন্ধু প্রশান্ত জেঠমালানি। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে আশরাফের সেই বন্ধু বলছেন, ‘ওঁর অবস্থা এক্কেবারেই ভালো নয়। কিডনির সমস্যায় ভুগছেন আশরাফ। সারা দেশে ক্রিকেট খেলাও এখন বন্ধ। তাই আশরাফের এই মুহূর্তে কোনও রোজগারও নেই। যেটুকু টাকা ওঁর কাছে ছিল, প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সবটাই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা সব বন্ধুরা মিলে প্রায় ২ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে পেরেছি। কিন্তু এখন আরও অর্থের প্রয়োজন।’

​এগিয়ে এলেন সোনু সুদ –

আশরাফের এহেন দুরবস্থার কথা লিখে ট্যুইটারে সাহায্যের বার্তায় জানায় সংবাদ মাধ্যম menxp। দিন দুয়েক আগেই ট্যুইটারে @navintheone নামের এক ইউজার আশরাফের কথা উল্লেখ করে menxp-র সেই ট্যুইটটি শেয়ার করেন। আর সেখানে সোজা ট্যাগ করে দেন সোনু সুদকে। লেখেন যে, ‘বিরাট-রোহিতদের ব্যাট সারিয়ে দেন যে আশরাফ ভাই, তিনি এখন হাসপাতালের বিল মেটাতে পারছেন না। আপনি যদি বিষয়টা একটু দেখেন সোনু সুদ।’ উত্তরে সোনু লেখেন, ‘এই ভাইয়ের ঠিকানা খোঁজার চেষ্টা করছি।’

Reply