আগামী মাসে ৭, ১১, ১২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ লকডাউন রাজ্যে, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ…

সপ্তাহে দুদিন করে রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অগস্ট মাসে নানা কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবু, মাঝেমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করার সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে রাজ্য। সামান্য হারে হলেও কমতে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ। সেই সূত্রেই এবার সেপ্টেম্বরের ৭ ও ১১, ১২ তারিখ রাজ্য হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ লকডাউন। বুধবার নবান্নে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ। তারপর খোলা হবে কিনা, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এখনও পুরো লকডাউন তোলা যাবে না। তাই নিয়ম মেনে সব পরিকল্পনা করতে হচ্ছে আমাদের।’

তবে, সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রো ও লোকাল ট্রেন চলাচলের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ‘নিয়ম মেনে, দূরত্ববিধি বজায় রেখে যদি মেট্রো চালানো যায়, তাহলে চলুক।’ তবে লোকাল ট্রেনের সংখ্যা এক চতুর্থাংশ হতে হবে। তবে, ৬টি হটস্পট শহর থেকে সপ্তাহে তিন দিন এ রাজ্যে বিমান চলাচলও করতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, সব ঠিকঠাক থাকলে খুব শিগগির দেশজুড়ে মেট্রো পরিষেবা ফের চালু হতে চলেছে। তবে মেনে চলতে হবে বিধিনিয়ম। আনলক ৪.০-এর অঙ্গ হিসেবে মেট্রো চালানোর অনুমতি দিতে পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সূত্রের খবর এমনটাই। জানা গিয়েছে, স্টেশনে প্রবেশের আগে প্রত্যেক যাত্রীর শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। কোনও ব্যক্তির শরীরে স্বাভাবিকের থেকে বেশি তাপমাত্রা ধরে পড়লে তাঁকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব বিধি। প্রতি কামরায় সর্বোচ্চ যাত্রী সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হতে পারে। একটি কামরায় সর্বোচ্চ ৫০ জনের যাত্রী উঠতে পারবেন বলে সূত্রের খবর। যদিও এই ভাবেই মেট্রো চালানোর অনুরোধ আগেই করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তা খারিজ করে দিয়েছে রেল। অবশেষে সেপ্টেম্বর থেকেই তা চালু হতে পারে বলে খবর।

এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকের আগে বিজেপি বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করোনা পরিস্থিতিতে JEE ও NEET পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাত রাজ্যের অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেতৃত্ব দেন। সেই সূত্রে সাংবাদিক বৈঠকেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, ‘এত অসুবিধার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের ফেলে পরীক্ষা নেওয়ার কোনও মানে হয়নি। আমরা আদালতে আবেদন করব। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে।’

সেইসঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ‘এজেন্সি দিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধের চেষ্টা চলছে। দেশে কি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চলবে? কোনও সাহায্য করে না, আবার কথাও শোনা হয় না। বিভিন্ন রাজ্যে নানা ইস্যু সামনে রেখে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এভাবে চলতে পারে না।’

Reply