হিন্দু দেব-দেবীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য, প্রয়াগরাজে গ্রেফতার এই ইউটিউবার!

ইউটিউবে হিন্দু দেব-দেবীদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও আপত্তিজনক মন্তব্য করে ভিডিয়ো আপলোড করেছিলেন এক মহিলা। সেই নিয়ে ছড়িয়েছিল চরম বিতর্ক এবং জনরোষ। অবশেষে মঙ্গলবার প্রয়াগরাজ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি।

অভিযুক্তের নাম হীর খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর আপলোড করা ভিডিয়ো হইচই ফেলে দিয়েছিল। ভিডিয়োতে হীর খানকে দেখা যায় হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে আপত্তিজনক মন্তব্য করতে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদে) কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে কাজ করেন হীর। তাঁর YouTube চ্যানেল ‘Black Day 5 August’-এ একের পর এক সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি। তবে তাঁর বেশিরভাগ ভিডিয়োই ১ হাজারের বেশি ভিউ পায়নি। তবে মঙ্গলবার হীর খান হিন্দু দেব-দেবীদের সম্পর্কে উসকানিমূলক কথা বলে একটি ভিডিয়ো আপলোড করেন যা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজার ভিউ। এই ভিডিয়ো দেখে রাগে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। মুহূর্তে ট্যুইটারে ট্রেন্ডিং হয়ে যায় #ArrestHeerKhan। বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে এদিনই হীর খানের বিরুদ্ধে প্রয়াগরাজের খুলদাবাদ পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা হয় এফআইআর এবং তার কিছুক্ষণ পরেই আইটি অ্যাক্টের অধীনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।


প্রয়াগরাজের এসএসপি অভিষেক দীক্ষিত জানিয়েছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল যেখানে একজন মহিলা হিন্দু দেব-দেবীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করছিলেন। সেই ভিডিয়োর ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়ে প্রয়াগরাজের খুলদাবাদ পুলিশ স্টেশনে। ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুরু হয়েছে তদন্ত। আমি প্রত্যেক সমাজ বিরোধীকে সতর্ক করে দিয়ে একটা কথাই বলতে চাই—কেউ যদি কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করে কোনও কাজ করেন অথবা সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা ছড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তার কড়া শাস্তি পেতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই কেন্দ্রের কাছে পাঠানো গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নেতাদের টার্গেট করতে পারে জঙ্গিরা। সঙ্ঘ পরিবার-সহ অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের নেতারাও নিরাপদ নন। যে কোনও সময় তাঁদের উপরও জঙ্গি হামলা হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থার এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। গোয়েন্দা রিপোর্টের উল্লেখ করে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করেছে অমিত শাহের মন্ত্রীক। সেইসঙ্গে বিজেপি, সঙ্ঘ ও হিন্দু সংগঠনগুলির নেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Reply