নিট, জেইই না পিছোতে মোদীকে আর্জি দেড়শো শিক্ষাবিদের

করোনা পরিস্থিতির কারণে নিট এবং জেইই পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে বিরোধীরা। একই দাবি শিক্ষার্থীদের একাংশেরও। কিন্তু দেশের দেড়শো জনেরও বেশি শিক্ষাবিদ জানিয়েছেন, ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষা ফের পিছিয়ে দেওয়া হলে পড়ুয়াদের ক্ষতি হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি লিখে সরাসরি এই মত জানিয়েছেন তাঁরা।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষাবিদদের অভিযোগ, ‘‘রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা পূরণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে।’’ পাশাপাশি চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘‘ছাত্র ও যুবসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু কোভিড-১৯ অতিমারির অভিঘাতে তাঁদের কেরিয়ারে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তি এবং ক্লাস (ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠক্রমে) সংক্রান্ত যে অনিশ্চয়তাগুলি রয়েছে, তা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।’’

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নিট এবং জেইই পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হলেও তার আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্যগুলিকে। করোনা পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীকে যাতে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়, তার জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু রাজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অভিমতের কথা বলে কেন্দ্র এখনও সেই দাবি মানেনি। এনটিএ সূত্রের খবর, বুধবার প্রায় ১৪ লক্ষ পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন। এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল বিনীত জোশীর বক্তব্য, দেরিতে পরীক্ষার কারণে পড়ুয়াদের একটি পুরো বছর যাতে নষ্ট না-হয়, সেই চেষ্টাতেই করোনা-কালেও সুষ্ঠু ভাবে ওই দুই প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজনের এই চেষ্টা।

বুধবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী, মুখ্যমন্ত্রী মমতো বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতা-নেত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকে নিট এবং জেইই পরীক্ষা পিছনোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বিরোধীরা। তার আগে দিল্লি আইআইটি, বিএইউচইউ, জেএনইউ-এর মতো দেশের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং লন্ডন, ক্যালিফোর্নিয়া, জেরুজালেম-সহ নানা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ভারতীয় শিক্ষাবিদদের চিঠি, পরীক্ষা-বিতর্ককে অন্য মাত্রা দিল।

Reply