প্যাংগং লেকে নতুন নির্মাণ, লাদাখে ৫জি নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা বেজিংয়ের…

নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। ফের উসকানি দিতে শুরু করেছে চিনা সেনা। সূত্রের খবর প্যাংগং লেকে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বেজিং। এছাড়াও লাদাখে চিনা সেনার বিশেষ সুবিধার্থে ৫জি নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্দ্যেশ্যে এই ৫জি নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা করা বলে খবর।

অগাষ্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ডেমচক এলাকায় এই নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য বিশেষ মুভমেন্ট নজরে পড়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর প্যাংগং লেক এলাকায় নতুন করে সেনাছাউনি চোখে পড়েছে। তৈরি হয়েছে চিনা সেনাঘাঁটি। এই এলাকা থেকেই চিনা সেনাকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল ভারত। তবে তাতে যে তারা কর্ণপাত করেনি, তা বলাই বাহুল্য।

জানা গিয়েছে, এই ৫জি নেটওয়ার্কের জন্য অগাষ্ট মাস ধরে প্যাংগং লেক ও বিতর্কিত এলাকা গোগরা হট স্প্রিংয়ে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল লাগিয়েছে চিনা সেনা। এই নিয়েই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না চিনা সেনা পুরোনো অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কুগ্রাং নদীর তীরেই অবস্থান করবে ভারতীয় সেনা। এক পাও পিছু হটবে না তারা।

তবে চিনা সেনার আকাশ পথে নজরদারি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে লাদাখে। লাদাখ ও অধিকৃত আকসাই চিনে যেভাবে নজরদারি বাড়াচ্ছে চিনা সেনা, তা নজরে পড়েছে ভারতের। ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে লাদাখের ১৫৯৭ কিমি সীমান্তে অবস্থান করছে পিএলএ। একাধিক বৈঠক, আলোচনা সত্ত্বেও পিছু হঠেনি চিনা সেনা, যা বিরক্তি বাড়িয়েছে নয়াদিল্লির।

ভারত বারবার ফিঙ্গারস এলাকা খালি করে দিতে বললেও, তা শোনেনি চিনা সেনা। ফিঙ্গারস ৪ থেকে ৫ খালি করার শর্ত হিসেবে ভারতকেও পিছু হঠার কথা জানিয়েছে বেজিং। ফিঙ্গারস ৪ থেকে ভারত সেনা সরানোর পরেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বেজিং। এখানেই আপত্তি নয়াদিল্লির।

তারা কোনওভাবেই ভারতীয় সেনা আর সরাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফিঙ্গারস ৫ থেকে ফিঙ্গারস ৮ পর্যন্ত অনমনীয় ভাবে এলাকা দখল করে রেখেছে চিনা সেনা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে চিন এখন বৈঠক বৈঠক খেলা খেলছে। অনেকটা পিং পং বলের মতো কখনও সামরিক, কখনও কূটনৈতিক স্তরের বৈঠক করছে তারা। কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে যে তারা সরবে না, সেকথা আগে থেকেই স্থির করে নিয়েছে বেজিং।

একের পর এক এলাকায় সেনা সাজাচ্ছে চিন। গত এক দশকে বেশ কয়েকটি সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। ডোকলাম, চুমার, ডেপসাং। কূটনৈতিক স্তরে যেমন সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সামরিক স্তরেও চেষ্টা চলছে। তবে ভারত আলোচনার রাস্তা খোলা রেখেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন পূর্ব লাদাখকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তার রেশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে চিন ইচ্ছাকৃতভাবে। একদিকে ভারতকে বিভিন্ন বৈঠকের নামে ব্যস্ত রাখা, অন্যদিকে সুকৌশলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা সাজিয়ে যাওয়া। আপাতত এই খেলাতেই মেতেছে চিন।

তথ্যসূত্র : kolkata24x7.com

Reply