“বিয়ের কথা না হলেও সুশান্তের সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম, এখন নিজে আ’ ত্মঘা’ তী হতে চাই” বললেন রিয়া

সুশান্ত সিং রাজপুত এর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী এবার এক অভিনব মন্তব্য করলেন। যা শুনে চমকে যাওয়ার জোগাড় সকলেই। তার বি’রুদ্ধে একেরপর এক অভিযোগ। সাম্প্রতিক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন রিয়া চক্রবর্তী। বললেন, সুশান্তের সন্তানের মা হতে চেয়েছিলেন তিনি।

এর আগে নিজের এবং সুশান্তের সম্পর্ক নিয়ে সেইভাবে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও এবার বললেন,”আমাদের মধ্যে বিয়ের কথা না হলেও, আমি চেয়েছিলাম আমার কাছে ছোট্ট একটা সুশান্ত আসুক। ওঁর সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম”। সুশান্তের বাবা কিছুদিন আগে দাবি করেছিলেন,”রিয়াই আমার ছেলেকে বি’ ষ খাইয়ে শেষ করেছে। ও-ই দোষী। অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক রিয়া আর তাঁর সাঙ্গপাঙ্গকে।”

মুম্বাই পুলিশ, বিহার পুলিশ,সিবিআই, নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো একের পর এক চাপে জর্জরিত রিয়া চক্রবর্তী। কখন আবার ধ’ র্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে তাকে। এবার নিজের মানসিক অবস্থার কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। আ’ ত্মঘা’ তীর মতো সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন রিয়া।

নিজের মানসিক পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে রিয়া চক্রবর্তী বলেন,”আমিও আ’ ত্মঘা ’তী হতে চেয়েছিলাম। অন্তত, বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমি আর আমার পরিবার। ক্রমাগত হুম’কি, ঘৃণা, এত মানুষের এত কথা, আমার মাথাতেও নিজেকে শেষ করার ভাবনা এসেছিল। কেউ অন্তত গু’ লি করে শেষ করে ফেলুক আমাদের, তাতে যদি শান্তি পায় তাঁরা। এমনিতেও আমাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছুই রাখেনি তাঁরা”

তাহলে এতদিন চুপ করে থাকার পর এখন এসব কথা বলার কারণ কি? জানতে চাইলে তিনি বলেন,”সত্যিটা সবাইকে বলতে। আমাদের মধ্যে কীরকম সম্পর্ক ছিল গোটা দুনিয়াকে জানাতে। আসলে সুশান্তের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই আমি কিছু বলিনি। আমার নিস্তব্ধতাকে আমার দুর্বলতা ভেবে নেওয়াটা ভুল!” সাক্ষাৎকারে কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন রিয়া।

রিয়ার সাথে সুশান্তের প্রথম পরিচয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে রিয়া বলেন,”২০১৩ সালে যশরাজ স্টুডিওতেই আমাদের আলাপ। সেসময় আমার প্রথম ছবি মুক্তি পেয়ে গিয়েছিল, আর সুশান্তের ‘কাই পো চে’ মুক্তির কথা চলছিল। সেসময়ও আমাদের একই ম্যানেজার ছিল। তারপর একদিন জিমে দেখা হল। পরে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা হত।

আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম, বছরে একবার দেখা হলেও সব কথা বলতাম। কী চলছে, কী সমস্যা সবই শেয়ার করতাম। তখনই আমার ওকে অন্যরকম লেগেছিল, মনে হয়েছিল ওর সঙ্গে একদিন বসে অনেক কথা বলতে হবে। এরপরে ২০১৯-এর ১৩ এপ্রিল সুশান্ত ও আমার দেখা হয়েছিল রোহিনী আইয়ারের পার্টিতে। সেখান থেকেই সম্পর্ক শুরু হয়েছিল। সুশান্ত তো বলেছিল একদিনেই আমায় ভালোবেসে ফেলেছে। আমি ২-৩ মাস সময় চেয়ে নিয়েছিলাম। I Love You শব্দটা অনেক বড় শব্দ। তখন কী আর জানতাম এত বড় শাস্তি পেতে হবে!”

সুশান্ত সঙ্গে কি সত্যিই রিয়ার বিয়ের কথা হয়েছিল? জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান,”সুশান্ত ও আমি কখনও বিয়ের কথা সরাসরি বলিনি। তবে হ্যাঁ, সুশান্তের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিন চলেছিল, এখন মনে হচ্ছে পরের জন্মেও চলবে। আমি সুশান্তকে সবসময় বলতাম, আমার একটা ছোট্ট সুশান্ত চাই, ছোট্ট সুশি, একেবারেই ওর মতো দেখতে। এটা আমাদের খুবই ব্যক্তিগত স্তরে এমন মজা চলত। দম্পতির মতোই এধরনের কথা হতো আমাদের”।

সুশান্তকে একজন ভালো আর সৎ মনের মানুষ বলেও দাবি করেন তিনি। সুশান্ত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে কর্ণটকের কুর্গে গিয়ে চাষাবাদ করতে চেয়েছিলেন, সেখানে সাধারণভাবেই জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। একথাও জানান রিয়া। এদিন সুশান্তকে ফের একবার ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’-এ আ’ ক্রা’ ন্ত ছিলেন বলে দাবি করেন রিয়া। মানসিক অবসাদে প্রকার কারণেই সুশান্ত কখনো ভালো কখনো বা খারাপ থাকতেন বলে মনে করেন রিয়া।

রিয়া বলেন,”সুশান্ত আমার সম্পর্কে উদাসীন ব্যবহার করছিল, বারবার বলছিল বাড়ি যাও। কারণ, আমিও অসুস্থ বোধ করছিলাম, মানসিক সমস্যা হচ্ছিল আমারও। হতে পারে সেকারণেই ও আমায় বাড়ি যেতে বলছিল বারবার। ৮ জুন আমার একটা থেরিপি সেশন ছিল মনোবিদের সঙ্গে। আমি চেয়েছিলাম সুশান্তের ওখান থেকেই মনোবিদের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু সুশান্ত আমায় আগেই চলে যেতে বলল।

বলল ওর দিদি আসবে তাই আগেই যেতে হবে। তখন আমি বলেছিলাম, তোমার দিদি মীতু দি (মুম্বইয়ের গোরেগাও তে থাকেন) আসলে তবেই যাবো। সুশান্তের পরিবারের কেউ আমায় পছন্দ করতো না। আমি বেরনোর পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে কোনও ফোন করেনি ও। খারাপ লেগেছিল, যাঁর অসুস্থতার টাইমে আমি পাশে ছিলাম, আজ যখন আমি অসুস্থ সে আমাকে দূরে কেন সরিয়ে দিল? ভেবেছিলাম ওঁর হয়তো আমাকে আর প্রয়োজন নেই। ভেঙেও পড়েছিলাম। ভাট সাহেবের কাছে পরামর্শ চাইতেই উনি বলেন, তুমি তোমার বাবার কথা ভেবে শক্ত থাকো।”

তথ্যসূত্র : aajsakal

Reply