স্বচ্ছ নেতা খোঁজা অভিযান! প্রাক্তন মন্ত্রী দেবেশ দাসকে তৃণমূলে ডাকলেন পিকে, মিলল কড়া জবাব

নেতা কিনতে গিয়ে মুখ ভোঁতা হয়ে ফিরতে হল পিকের (Prashant Kishor) টিমকে। রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী দেবেশ দাস (Debesh Das) কে তৃণমূলের (TMC) আসার ‘অফার’ দিতে গিয়ে শুনতে হলো ‘মানুষ কেনা যায়, কিন্তু আদর্শ কেনা যায় না’।

আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের (Legislative Assembly Election) জন্য নিজের মসনদ রক্ষা করতে উঠে পড়ে লেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আর তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করতে এসেছেন পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। মূলত তাঁর বুদ্ধিতেই নতুন দল নেমেছে তৃণমূলের জন্য স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা খোঁজার। নিন্দুকরা অবশ্য বলছেন যে শাসকদল তো পুরো বড়লোকেই ভরে গিয়েছে তাই বাধ্য হয়ে ভোটে লড়ার জন্য এবার দিদিকে সততার প্রতীক হিসাবে অন্য দলের নেতাদের কাছে দরবার করতে হচ্ছে।

রাজ্যের বিভিন্ন বামপন্থী নেতা ও মন্ত্রীদের কাছে পিকে-র টিম কয়েকদিন ধরেই ফোন করছে। এর আগে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকজন সক্রিয় এবং নিষ্ক্রিয় বামনেতাকে তৃণমূলে যোগদানের প্রস্তাব দিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দলবল। ফোন গিয়েছে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক লক্ষীকান্ত রায়, জলপাইগুড়ির প্রাক্তন সাংসদ মহেন্দ্রকুমার রায়ের মতো বাম নেতাদের কাছে। যদিও সব ক্ষেত্রেই পত্রপাঠ বিদায় করে দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দলবলকে। এবার রাজ্যের প্রাক্তন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবেশ দাসকে একই রকম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই কথা জানিয়েছেন দেবেশবাবু স্বয়ং।

প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের টিম ফোনে তাঁকে বলে, “আপনার মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এবং গ্রহণযোগ্য নেতা আমাদের প্রয়োজন।” কিন্তু এই প্রাক্তন মন্ত্রী স্পষ্ট তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন এবং বলেন যে “মানুষ কেনা যায় কিন্তু আদর্শ কেনা যায় না ।আমরা যে আদর্শে বিশ্বাস করি তাতে আপনাদের প্রস্তাবে সাড়া দিতে আমরা অপারগ। তাই দেখা করার জন্য কোন সময় আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এই ব্যাপারে আমাকে বিরক্ত করে কোন লাভ হবে না।”

এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্যতম পরিচয় তারা দুর্নীতিগ্রস্ত,বক্তব্য বিরোধীদের। কাটমানি বিতর্ক থেকে শুরু করে সারদা নারদা কান্ড, আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা লোপাট করা থেকে রেশনের চাল চুরির অভিযোগ, সব মিলিয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত সবুজ শিবির। সততাই মূলধন বলে যে দল পশ্চিমবঙ্গে একসময় যাত্রা শুরু করেছিল তারাই আজ দুর্নীতির অভিযোগে রীতিমতো জর্জরিত। তাই প্রশান্ত কিশোরের প্রথম কর্তব্য ছিল মানুষের কাছে তৃণমূলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা সেই কারণেই ফোন যাচ্ছিল বিভিন্ন বাম নেতাদের। যদিও বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে প্রশান্ত কিশোর কে।

তথ্যসূত্র :

Reply