দিলীপ নয়, একুশে বঙ্গ বিজেপির জয়ের কারিগর হবেন মুকুলই, বার্তা কৈলাশের

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নয়, মুকুল রায়ের উপরই বাংলা দখলের ভরসা রাখলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। শুক্রবার মেয়ো রোডে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মঞ্চ থেকে বিজয়বর্গীয় বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন মুকুল রায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও তাঁকে সরাবেন মুকুল রায়ই।”

বাঙালির ভাবাবেগ বুঝে চলা দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি মুকুল রায়। তৃণমূলে তাঁকে চাণক্য বলা হত। বিজেপিতে গিয়ে সেই মর্যাদা খুইয়েছিলেন মুকুল। এতদিন পর বিজেপিতেই তাঁকে চাণক্যের মর্যাদা দিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এদিন তিনি বললেন, ‘মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তেই তাঁর বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না তিনি বাংলার রাজনীতির চাণক্য। মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী তিনি বানিয়েছেন। মুকুল রায়ই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও মমতাকে সরাবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বক্তব্যের যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করার জন্য মুকুল রায়ের ওপরই যে নির্ভর করছে দল, বিজয়বর্গীয়র এ দিনের বক্তব্যই তার ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মত বিশ্লেষকদের। আর যেখানে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন নিজে বলছেন, একুশে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তিনি একাই যথেষ্ট, তখন কৈলাশের একথা ধারে-ভারে অনেকটাই বলে মত বিশ্লেষকদের।

গেরুয়া শিবিরের অনেকেই বলেন, বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে মুকুল রায়ের সম্পর্ক প্রথম থেকেই বেশ মধুর। বরং দিলীপ ঘোষের সঙ্গে ততটা ঘনিষ্ঠ নয় কৈলাশের। অনেকেই বলছেন, মুকুল রায়ের হয়ে এখন বঙ্গ বিজেপিতে লড়াই চালাচ্ছেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। তিনি মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতাকে যুব মোর্চায় ঢোকানোর তদ্বির করছেন দিলীপ-ঘনিষ্ঠকে সরিয়ে।

উল্লেখ্য, এদিন মেয়ো রোডের সভায় দিলীপ ঘোষ ছিলেন মাত্র মিনিট ৪০। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় যখন এলেন, তখন উঠে যান দিলীপ ঘোষ। তারপর কারও সঙ্গে কথা না বলেই সভা ছেড়ে চলে যান তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই মুকুলের ‘জয়গান’ গাইলেন কৈলাশ। এই ছবি বঙ্গ বিজেপির অন্তরকলহকে আরও প্রকট করল বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

তথ্যসুত্রঃ khobor24x7

Reply