চিন থেকে ভারতে ব্যবসা সরালেই ভর্তুকি, বিশেষ ঘোষণা জাপানের

ফের বড়সড় ধাক্কা চিনকে। এবার জাপানের থেকে ধাক্কা খেল বেজিং। জাপান সরকার জানিয়েছে চিন থেকে ভারতে ব্যবসা সরিয়ে নিয়ে আসলেই সেই কোম্পানিকে বিশেষ ভর্তুকি দেবে জাপান সরকার। একই ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশের জন্যও।

জাপানি উৎপাদকারী সংস্থা, যেগুলির মূল ব্যবসা চিনে রয়েছে, সেখান থেকে ভারত বা বাংলাদেশে যদি তারা ব্যবসা স্থানান্তরিত করে, তবে ভর্তুকি মিলবে বলে জানিয়ে দিয়েছে জাপান। জাপানি বিভিন্ন উৎপাদকারী সংস্থার শাখার প্রসার ঘটাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে টোকিও।

জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক জানিয়েছে আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত যে কোনও দেশেই এই কোম্পানিগুলি নিজেদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারে। তবে তার জন্য চিনের মাটি ছাড়তে হবে। যদি তা করতে পারে এই কোম্পানিগুলি, জাপান সরকার অর্থনৈতিক দিক থেকে সব রকম সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় যেসব কোম্পানি উৎপাদন শুরু করেছে, তাদের জন্য ২০২০ সালে একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাব রেখেছে জাপান। যেখানে ২৩.৫ বিলিয়ন ইয়েনের ঘোষণা করা হয়েছে। জাপান চাইছে কোনও একটি বিশেষ দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে, ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতে। বলাই বাহুল্য এখানে চিনকেই নির্দেশ করেছে টোকিও।

উল্লেখ্য জাপানি কোম্পানিগুলির সাপ্লাই চেন চিনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। সেই পরিস্থিতির বদল ঘটাতে চাইছে জাপান সরকার। এমনিতেও করোনা পরিস্থিতির জেরে বেশ কিছুটা সেই নির্ভরশীলতা কমেছে। এই ভর্তুকির ঘোষণা হতেই বেশ সাড়া পড়েছে জাপানের শিল্প মহলে। আবেদন পত্র জমা পড়তে শুরু করেছে। প্রথম ধাপের আবেদন পত্র নেওয়া হয়েছে জুন মাসে।

ইতিমধ্যেই ভিয়েতনাম ও লাওসে কোম্পানি স্থানান্তরিত করার জন্য ৩০টি উৎপাদনকারী সংস্থাকে প্রজেক্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এজন্য ১০ বিলিয়ন ইয়েন ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর আগেও ভারত জাপান সুসম্পর্কের কথা সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। চিনের রক্তচাপ বাড়িয়ে সেপ্টেম্বরেই সামরিক চুক্তি করবে এই দুই বন্ধু রাষ্ট্র বলেও জানা গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে শুরুর দিকেই বৈঠক করার কথা রয়েছে দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানের।

এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়াও জাপানের কিছু পণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারতে ব্যবসা স্থানান্তরিত করতে পারে। উল্লেখ্য দুই দেশই চিনের আগ্রাসনের শিকার। একদিকে ভারতের পূর্ব লাদাখ সীমান্তের চিনা সেনার বাড়বাড়ন্ত, অন্যদিকে জাপানের সেনকাকু দ্বীপে চিনা নৌবাহিনীর আগ্রাসন।

ফলে দুই দেশই রীতিমত ক্ষুব্ধ। এই পরিস্থিতিতে ভারত জাপানের বৈঠকে উঠে আসবে চিনের আগ্রাসী মনোভাব ও সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার চিনের আগ্রাসন নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে জাপান।

Reply