১৫মাস যাবত মেলেনি কোনো বেতন, পেটের দায়ে অটো চালাচ্ছেন চিকিৎসক

দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন এ চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। চাকরি করে বেতন পাননি এমন মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এবার পেটের দায়ে অটো রিক্সা চালাতে বাধ্য হলেন এক চিকিৎসক। সারা দেশের প্রতিটি রাজ্যের পাশাপাশি কর্নাটকে বাড়ছে ক’রো’ণা আক্রান্তের সংখ্যা।

হাসপাতালে বেডের সংখ্যা কমছে, বহু স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এরইমধ্যে ৫৩ বছর বয়সি জীবিকা নির্বাহের জন্য অটো চালানোকেই বেছে নিয়েছেন। ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ এমএইচ, বল্লারী জেলায় গত ২৪ বছর ধরে স্বাস্থ্য এবং পরিবার মন্ত্রকের অধীনে চাইল্ড হেলথ অফিসারের পদে কর্মরত।

গত ১৫ মাস যাবত কোন বেতন পাননি তিনি। তাই পরিবারকে সাথে নিয়ে দুবেলা-দুমুঠো খেয়ে পরে বাঁচতে দাভানগর এলাকায় অটো চালাচ্ছেন চিকিৎসক।

রবীন্দ্রনাথ বাবু জানিয়েছেন,”ওই আইএএস কর্তা পরবর্তীতে বল্লারী জেলায় প্রশাসনিক কার্যভার গ্রহণ করেন। তখন থেকেই তিনি বিরক্ত ছিলেন আমার উপরে। একদিন তিনি আমায় দেখান আমি বেআইনি ভাবে অন্য চিকিৎসকদের নিয়োগ করেছি।

কিন্তু আমি প্রমাণ করে দিয়েছিলাম যে এই কাজ আমি করিনি। এবং কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখানো হয়েছিল আমার বি’রুদ্ধে। এই ঘটনার চারদিন পর গত বছরের ৬ জুন থেকে আমায় বরখাস্ত করে দেওয়া হয়।

এরপর আমি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণাটক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যালে আমি আবেদন করি। এবং সেখানে আমায় পুনরায় বহাল করার রায় দেওয়া হয়। কিন্তু তা করা হয়নি। তখন ওই চিকিৎসক সিদাম জেনারেল হাসপাতালে সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসারের পদে ছিলেন”।

ওই চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন,”আমি গত ১৭ বছর ধরে গ্রামীন স্বাস্থ্য বিভাগে নিযুক্ত। আমি স্বাস্থ্য পরিষেবায় ভালো কাজ করায় পুরস্কৃতও হয়েছি। কিন্তু এরপর জোর করেই আমার পদ কেড়ে নেওয়া হয়। তাও আমি সময় মতো কর্তব্য পালন করে গিয়েছি। আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছি।

অনেক ল’ড়া’ইয়ের পর আমায় জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় জানুয়ারি মাসে। কিন্তু আমায় বলা হয় আমায় গ্রামীন হাসপাতালেই আপাতত কাজ করতে হবে এই কো’ভি’ডের জন্য। যেহেতু সবাই আমরা জানি এই ম’হামা’রীতে কতটা ল’ড়া’ই আমাদের করতে হচ্ছে।

কিন্তু ওই আইএএস অফিসার সব জায়গায় স্বাক্ষর না করায় আমার মাইনে আটকে দেয়। পরবর্তী আদালতে মামলার দিন দেওয়া হয়েছে ১১ সেপ্টেম্বর। এরপর আদালতের নির্দেশেই যা হবার হবে। এরপরই আমি সিদ্ধান্ত নিই গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাব।

এখন ফিরে এসেছি। অটো চালাচ্ছি আর একটি প্রাইভেট ক্লিনিক খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আমার কাছে নতুন ব্যবসা শুরু করবার মতো টাকা নেই। লোনও পাচ্ছি না। একটি এজেন্সির সাহায্যে এই অটোটি কিনেছি। আমি বেঁচে থাকতে চাই। দোষীদের শাস্তি দিতে চাই।

Reply