চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন ৩ বন্ধু, মুক্তো বিক্রি করে দেদার মুনাফা

একদিকে যখন দেশে ক’রো’না’র মধ্যে চাকরির রীতিমতো অভাব। বহু ছাঁটাই হয়েছে। যুবকেরা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার মধ্যে অন্য খবর। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী জেলার তিন শিক্ষিত যুবক চাকরি ছেড়ে নিজেদের ব্যবসা খুলে আত্মনির্ভর হতে ব্যস্ত রয়েছেন।

এই তিনজন যে কাজ করছেন তা একদিকে যেমন ব্যবসা অন্যদিকে এটি ফার্মিং-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে সংযুক্ত। আসলে এই তিন তরুণ শিক্ষিত যুবক গ্রামের বাইরেই ছোট ছোট পুকুরে ঝিনুকের চাষ শুরু করেছেন। এছাড়া তিনজন মৌমাছি ও ছাগল পালন শুরু করে দিয়েছেন।

ঝিনুক চাষ করা এক তরুণ যুবক জানিয়েছে, সে এমএ-বিডব্লিউ. হওয়া সত্ত্বেও ঝিনুকের চাষে আগ্রহী ছিল। এই চাষ অন্য চাষের মতো হলেও কিছুটা আলাদা। এব্যাপারে ওই তিনজন জেনে ও বুঝে নেওয়ার জন্য ইন্টারনেট থেকে প্রচুর পড়াশোনা করেন ও এক জায়গা থেকে প্রশিক্ষণও নেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ঝিনুক থেকে মুক্তা তোলার কাজে তিনগুণ লাভ হয়।

ওই তিন বন্ধুর মধ্যে এক যুবক, যিনি কিনা বিএ পাশ, তিনি বর্তমানে মৌমাছি পালনের কাজও করছেন। তিনিও এর জন্য আলাদা করে প্রশিক্ষণ নেন ও এখন বেশ রমরমিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে মধু বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি তাঁদের কাছ থেকে মধু কিনছে। এছাড়া তাঁরা বর্তমানে অন্যদেরকেও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তিন বন্ধুর বর্তমানে লক্ষ্য রয়েছে চলতি বছর তাঁদের কাজে আরও ২০০ লোককে নিয়োগ করা। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারী অনেক কিছু শিখিয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে যুবকদের এই কাজে দারূন খুশি উত্তর প্রদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং এলার বিধায়ক অনিল রাজভর। তিনি যুবকদের উৎসাহ দিতে গ্রামে আসেন এবং তাঁদের কাজ করার পদ্ধতি সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন, এই যুবকেরা চাকরি ছেড়ে এই কাজ করে কেবল নিজেরাই নয়, অন্যান্য লোকদেরও স্বাবলম্বী হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন।

Reply