“পশ্চিমবঙ্গ বিপদের মধ্যে আছে, বাংলা পুরানো কাশ্মীরে পরিণত হচ্ছে” দাবি বিজেপি নেত্রী লকেটের

লোকসভায় বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তার এই মন্তব্যের মূলে রয়েছে তেলেনিপাড়ার ঘটনা। একুশের বিধানসভা ভোট যতই এগিয়ে আসছে সারাদেশসহ বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি। এদিন লোকসভার বৈঠকে বসে লকেট চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে তুলনা করলেন পুরাতন কাশ্মীরের সঙ্গে।

সংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় লোকসভার বাদল অধিবেশনের তৃতীয় দিনে নিম্নকক্ষের তেলেনিপাড়া গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেন। এমনকি তেলেনি করার ঘটনা সম্পর্কে রাজ্য সরকারের তোষণের অভিযোগ তোলেন তিনি। এদিন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন,”দুঃখের সঙ্গে বলছি, পশ্চিমবঙ্গ বিপদের মধ্যে আছে। বাংলা পুরনো কাশ্মীরে পরিণত হচ্ছে”।

এদিন অধিবেশনের লকেট চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কোন এক বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ক’রো’না টেস্ট করাতে অস্বীকার করেন। তাই নিয়েই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল এমনকি সংঘর্ষ পর্যন্ত বেধে গিয়ে ছিল।

বহিরাগতরা সঙ্গে বোমা নিয়ে এলাকায় ঢুকে পড়ে, শুরু হয় বোমাবাজি। নিস্তার পাননি মহিলারা। তাদেরও শ্লি’লতা’হা’নির শিকা’র হতে হয়। বহু ঘরবাড়ি লু’টপা’ট চালানোর সঙ্গে সঙ্গে জ্বা-লি’য়ে দেওয়া হয়েছিল বহু দোকান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মে মাস নাগাদ ভদ্রেশ্বর থানা এলাকার তেলিনিপাড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়। রাজ্য জুড়ে লকডাউন চললেও ছোড়া হয়েছিল ইটপাটকেল। একইসঙ্গে চলেছিল বো-মাবা’জি। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। ব্রডব্যান্ড এবং ইন্টারনেট পরিষেবা ও সাময়িক কালের জন্য বন্ধ ছিল।

এর কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে দায়ী করেন। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকেও সচেতন হতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রদায়িক দিক থেকে বিচার না করে যারা দোষী তাদের গ্রেফতার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।

যদিও সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এর অভিযোগ, শাসক দলের তোষণ নীতির জন্যই এমনটা ঘটেছে। ২০১৬ সালে দুর্গাপুজোর বিসর্জন, পরের বছর রামনবমীর সময়েও একই ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন,”তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা তাতে জড়িত থাকেন। আমি যদি নাম বলি, তাহলে ওই পার্টি আমায় বলবে, আমি সাম্প্রদায়িক”।

Reply