“হিটলার কায়দায় দেশ চালাচ্ছে, ছিঃ বিজেপি ছি:!”, কৃষি বিল নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যসভায় জোড়া কৃষি বিলের বিরোধিতা করেছিলেন বিরোধী কংগ্রেস, তৃণমূল, অকালি দল, ডিএমকি, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা। সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েনের বি’রুদ্ধে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ সিংয়ের কাছ থেকে রাজ্যসভার রুল বুক ছিঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ওঠে।

কৃষি বিল নিয়ে বিক্ষোভের জেরে ডেরেক ও’ব্রায়েন দোলা সেন সহ রাজ্যসভার আট জন সাংসদকে সাসপেন্ড করেছেন চেয়ারম্যান। কিন্তু তারপরও চেয়ারম্যানের নির্দেশ উপেক্ষা করে অধিবেশন কক্ষে হাজির হন সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা। তাঁরা কক্ষ ত্যাগে নারাজ ছিলেন। যা ঘিরে প্রবল বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন শাসক-বিরোধী সাংসদরা।

কিছুদিন আগেই বিজেপি গণতন্ত্রকে শেষ করছে বলে টুইটারে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেও থেমে থাকেননি তিনি। সংসদে আন্দোলন চলছে। নবান্নে সংঘটিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,

“কাল থেকে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস,পরশু ছাত্র তার পরের দিন কৃষক ও ক্ষেতমজুর রাজ্যে লাগাতার আন্দোলন চলবে”। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হিটলারের তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”হিটলারের সরকার সংবিধানের, আদালতের গণহ-‘ত্যা করছে। ছিঃ বিজেপি ছিঃ”।

শ্রমিক আইন এবং কৃষি বিল এর তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,”সারা দেশকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনে বসে কাঁসর ঘন্টা বাজিয়ে আন্দোলনে থাকবে। সব বিরোধীরা একজোট হন।

কৃষক ও শ্রমিক আজ বিপন্ন। উলঙ্গ রাজা তোমার কাপড় কোথায়।” বাংলায় এবার খাদ্যের দুর্ভিক্ষ আসতে চলেছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রের দিকে তিনি একগুচ্ছ প্রশ্ন করে বলেন,”চাষিদের জন্য কী করেছেন? কেউ কেউ দাবি করছেন, তাঁরাও কৃষক। কোনওদিনও লাঙল দিয়ে দেখেছেন?”।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,বিরোধী সাংসদরা ডেপুটি চেয়ারম্যানের মাইক্রোফোনও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এই কারণে সোমবার তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন- সহ রাজ্যসভার আট বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু এদিন অভিযুক্ত বিরোধী সাংসদদের শাস্তি ঘোষণা করেছেন। ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ সিংয়ের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবও খারিজ করেছেন তিনি।

Reply