পুলিশ এখন তৃণমূলকে বাঁচাতে ব্যস্ত, জ’ঙ্গি নেটওয়ার্ক খোঁজার সময় কই: অধীর

আ’ল কা’য়দা জ’ঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ৬ যুবক মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।তাঁর কথায়, “বাংলায় পুলিশ তৃণমূলকে বাঁচাতে ব্যর্থ। জ’ঙ্গি নেটওয়ার্ক খোঁজার সময় কই! ন্যূনতম গোয়েন্দা পরিকাঠামো কাজ করলে বাংলায় এ ধরনের কার্যকলাপ চলতে পারে না।”

শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হয়েছে ৬ আ’ল-কা’য়দা জ’ঙ্গি। কেরলের এর্নাকুলাম থেকে গ্রেফতার হয়েছে ৩ জন। এনআইএ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই ৯ জ’ঙ্গিকে ট্রেনিং দিত পাকিস্তানে থাকা আ’লি-কা’য়দার মাথারা। নির্দেশ ছিল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জ’ঙ্গি হামলা করার। নিশানায় ছিল রাজধানী শহর দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকাও। ধৃতদের থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, নথিপত্র, জি’হা’দি সাহিত্য, ধারালো অ-স্ত্র, দেশীয় আ’গ্নে’য়া’স্ত্র, স্থানীয় এলাকা থেকে বানানো শরীরে পড়ার বর্ম, ঘরে বসে বি’স্ফো’র’ক বানানোর বিভিন্ন বই এবং নথিপত্র—— এইসব কিছু উদ্ধার করা হয়েছে।

এই গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আ’ল কা’য়’দার মতো জ’ঙ্গি সংগঠনের শিকর বাকড় যদি বাংলায় গজাতে শুরু করে তা হলে বুঝতে হবে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর, ভয়াবহ”। এ কথা বলার পরক্ষণেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় চাপাতে চান নবান্নের উপর।

তিনি বলেন, “এর আগেও বাংলায় জ’ঙ্গি কার্যকলাপের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের নাম উঠে এসেছে। ভারতের অন্যত্র জ’ঙ্গি না’শকতার ঘটনাতেও মুর্শিদাবাদের নাম উঠেছে। যেমন কিছু দিন আগে বুদ্ধগয়ায় বি’স্ফো’র’ণের ঘটনার সঙ্গে মুর্শিদাবাদের নাম জড়িয়েছিল। তা ছাড়া এই জেলা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী। বাংলাদেশের জা’মা’ত উল মু’জা’হিদের শাখা প্রশাখা এখানে ছড়িয়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ সব কম চিন্তার নয়।” তিনি বলেন, “রাজনীতি করার জন্য বা এর ঘাড়ে ওর ঘাড়ে দোষ চাপানোর জন্য এ কথাগুলো বলছি না। বাংলায় পুলিশি ব্যর্থতার কথা সাদাকালোয় পরিষ্কার।”

যদিও শুধু তৃণমূল সরকারকেই নিশানা করেননি অধীরবাবু। পরোক্ষে কেন্দ্রে শাসক দলেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, ভারতবর্ষ এখন এক অদ্ভূত সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা করছে এক দল। যাদের মুর্শিবাদার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা অশিক্ষিত, দরিদ্র, সাধারণ। আ’ল কা’য়েদা এই ধরনের মানুষদেরই শিকার করে বলে মন্তব্য করেছেন অধীর। জ’ঙ্গি সংগঠনগুলি সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Reply