ক্লিভেজ দেখা যাওয়ার অজুহাতে মিউজিয়ামে ঢুকতে বাধা তরুণীকে !

আমরা সব সময় দাবি করে থাকি যে আমরা যথেষ্ট উন্নত মানসিকতার ,আমাদের সমাজে ছেলে মেয়ে প্রত্যেকেরই নাকি সমান অধিকার।কিন্তু এই ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে উঠে আসছে বিভিরকম প্রশ্ন- যে সত্যিই কি আমরা আমাদের মধ্যযুগীয় মানসিকতার পরিবর্তন সত্যিই করতে পেরেছি ?বিশেষত মেয়েদের প্রতি! ক্লিভেজ দেখা যাওয়ার অজুহাতে মিউজিয়ামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হল এক ফরাসী তরুণীকে!নেট নাগরিকদের উদ্দেশে লেখা তার খোলা চিঠি ভাইরাল নেট দুনিয়ায়।

বক্ষ বিভাজিকা দেখা যাওয়ার অজুহাত দিয়ে তাকে মিউজিয়ামে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় যে ন্যাক্কারজনক কাজ করা হয়েছে সেটা নিয়েই রীতিমত ক্ষুব্ধ নেট জনতা । সেই তরুণী ইনস্টাগ্রামে তার খোলা চিঠিতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি এক বন্ধুর সঙ্গে মিউজিয়ামে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ঢোকার মুখে টিকিট দেখাতে যাওয়ার সময়ই তাঁকে নিরাপত্তারক্ষী বলেন তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা জানতে চান তরুণী। তখন তাঁকে বলা হয়, আপনার পোশাক অত্যন্ত খোলামেলা।

কারণ, আপনার বক্ষ বিভাজিকা (Cleavage) দেখা যাচ্ছে! তরুণীর দাবি, আর একথা শোনামাত্রই আশেপাশের অন্যান্য লোকেরাও তাঁর দিকে তাকাতে শুরু করেন। রীতিমতো লজ্জায় পড়ে যান তিনি। পোশাক বদল করলে মিলবে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি !তখন সেই তরুনি স্বভাবতই প্রশ্ন করেন যে পোষাকের বিধিনিষেধের কথা কোথাও উল্ল্যেখ করা নেই অথচ তাঁকে এভাবে পোশাক নিয়ে রীতিমতো অপমান করা হচ্ছে কেন?

তবে সেকথায় বিন্দুমাত্রও পাত্তা দেননি মিউজিয়ামের নিরাপত্তারক্ষী। পোশাক বদল করে মিউজিয়ামে ঢোকার প্রস্তাবে রাজি হননি তরুণী। পরিবর্তে তিনি মিউজিয়ামে না ঢুকে ফিরে যান। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় গোটা ঘটনার কথা উল্লেখ করে খোলা চিঠি লেখেন যে আজও কীভাবে শুধুমাত্র পোশাকের দোহাই দিয়ে মেয়েদের ছোট করা হয়।

তরুণীর চিঠি প্রায় বিদ্যুতের গতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। কিভাবে আজকের দিনে দাঁড়িয়েও একজন মহিলাকে পোশাকের জন্য অপমানিত হতে হল? এই ঘটনাকে কার্যত মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল বলেও অভিযোগ করেন অনেকেই। যদিও লেখাটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষমেশ তরুণীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয় মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। তবে ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আজও সমাজ ঠিক কতটা পিছিয়ে রয়েছে।

Reply