‘দানের ঝুলি’ আসলে ‘ভোটের ঘুস’, বিজেপির হিন্দু ভোট কিনতে চাইছেন মমতা, কটাক্ষ অধীরের

দুর্গাপুজো আসতে হাতে আর মাত্র একটা মাসও বাকি নেই। এদিকে পুজো উপলক্ষে ইতিমধ্যেই ‘দানের ঝুলি’ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই দান দুর্গাপূজা উপলক্ষে নয়, বরং ভোটপুজো উপলক্ষে। শুক্রবার এমনটাই দাবি করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রীর এই দান প্রক্রিয়াকে ‘ভোটের ঘুস’ হিসেবে এদিন কটাক্ষ করেন তিনি।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কথায়, মমতা সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মানুষের করের বোঝা চার লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় ভোট চাওয়ার মুখ নেই তৃণমূলের। তাই ঢাকের দায়ে মনসা বিদায় করতেই পুজো উপলক্ষে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ট্যাক্স বাড়িয়ে, সেই ট্যাক্সের টাকায় মুখ্যমন্ত্রী ভোটপুজো করছেন বলে এদিন তোপ দাগেন তিনি।

তবে শুধুমাত্র হিন্দুদের বোকা বানানো হচ্ছে তাই নয়, এর আগে মুসলমান ভোটের জন্য মুসলিমদেরও ব্যবহার করা হয়েছিল বলেই অভিযোগ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। এদিন ইমাম ভাতার প্রসঙ্গ টেনে এনে অধীরবাবু বলেন, ‘ইমাম ভাতা দিয়ে আসছে ওয়াকফ বোর্ড। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার করেছেন ইমাম ভাতার দিচ্ছে তিনি।

এই প্রচারের মাধ্যমে মুসলমান ভোট টেনেছিলেন মমতা। অথচ মুসলমানদের একটা টাকাও দেননি। এবার তার বিপরীতে ব্রাহ্মণ ভাতা ও পুজোয় অর্থ দান করে হিন্দু ভোট কিনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।’ বিজেপির থেকে হিন্দু ভোট ছিনিয়ে আনতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কৌশল বলে এদিন কটাক্ষ করেন অধীরবাবু।

প্রসঙ্গত, গতকালই নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই পুজো উদ্যোক্তাদের জন্য এক কথায় জোড়া হস্তে ঝাঁপি খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারের পুজোয় ফায়ার ব্রিগেড ও পুরনিগমের এবং পঞ্চায়েত গুলো পুজো উদ্যোক্তাদের থেকে কোনরকম ট্যাক্স নেবেন না বলে ঘোষণা করেন। এর সাথে সিএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর ৫০ শতাংশ কর কম করেই বিদ্যুৎ সাপ্লাই দেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সবশেষে বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে পুজোর জন্য ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। আগের বছর পর্যন্ত এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার টাকা। যায় বছর এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়।

Reply