লাদাখে চিনাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় সেনাকে খাবার জোগাচ্ছেন গ্রামবাসীরা

গ্রাম বাঁ’ চা’ তে হবে চিনা আগ্রাসন থেকে। তাই লাদাখের চুশুল গ্রামের মানুষ ভারতীয় সেনাকে খাবারদাবার, রসদ জুগিয়ে চলেছেন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনা সেনার মুখোমুখি দাঁড়ানো সৈন্যবাহিনীকে এভাবে সমর্থন করে চলেছেন তাঁরা।

ছোট্ট গ্রাম চুশুল পূর্ব লাদাখে একেবারে চিন সীমান্ত লাগোয়া, দেড়শোর মত বাড়ি রয়েছে এখানে। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে প্রতিদিন বারবার হিমালয়ের পাহাড়চুড়ো ব্ল্যাক টপে উঠে আসেন চুশুল গ্রামের মানুষ। সেখানে আছেন কয়েকশো ভারতীয় সেনা, তাঁদের কাছে তাঁরা রসদ পৌঁছে দেন। ১০০-র মত নারী, পুরুষ ও অল্পবয়সী ছেলেকে ভারী ভারী ডাফেল ব্যাগ, চালের বস্তা, জ্বালানির ক্যান ও বাঁশের ছড়ি পিঠে বেঁধে ব্ল্যাক টপে উঠতে দেখা যায়। তবে শুধু ভালবাসাবশত নয়, চিন সীমান্তের এই গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন, যদি তাঁরা সেনাকে সাহায্য না করেন, প্রচণ্ড শীতে প্রস্তুত থাকার রসদ না জোগান, তবে তাঁদের গ্রাম চিনা দখলে চলে যাবে। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা আকছার মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে নেমে যায়।

শেরিং নামে বছর আঠাশের এক গ্রামবাসী বলেছেন, আমরা ভারতীয় সেনাকে সাহায্য করছি, যাতে তাদের নিজেদের জমি ধরে রাখতে কোনও সমস্যা না হয়। দিনে অসংখ্যবার ব্ল্যাক টপে উঠে এসে রসদ জোগাচ্ছি আমরা, যাতে সেনাকে কোনও অসুবিধেয় না পড়তে হয়।

লাদাখের প্যাংগং সো এবং সাব সেক্টর নর্থ থেকে চুশুল পর্যন্ত ভারত ও চিনা সেনার বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। জুনে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনার হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হওয়ার পর ভারত সংঘর্ষের সময় অ’ স্ত্র ব্যবহার না করার রীতি মেনে চলা বন্ধ করে দিয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ভারত-চিনের আলোচনা যতই চলুক, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনও লক্ষণ বাস্তবে নেই। গত সপ্তাহে ভারত সীমান্ত জুড়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। ভারতীয় সেনা কনভয় ছাউনিগুলিতে পৌঁছে দিচ্ছে রসদ, অ’ স্ত্র’ শ’ স্ত্র। এসেছে রাস্তা, বাড়িঘর তৈরির যন্ত্রপাতিও। অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মনোজ যোশীও বলেছেন, এটা পরিষ্কার, দু’পক্ষই শীতকালে এখানে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তারা বুঝেছে, কূটনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান হবে না।

ফলে চুশুলের বাসিন্দাদের বিশ্রাম নেই। রাস্তাহীন পর্বতচুড়ো প্রাণ হাতে করে বেয়ে উঠে সেনার কাছে রসদ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে চলেছেন তাঁরা।

Reply