‘মন কি বাতে’ মোদীর মুখে পারিবারিক মূল্যবোধ, দেশজোড়া বিক্ষোভেও কৃষিবিলের স্তুতি!

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও কৃষি বিল পাশ হয়েছে সংসদে, প্রবল বিতন্ডার মধ্যে দিয়ে৷ এর দিন তিনেক পরেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য সংসদ মুলতুবি করা হয়েছে। এর পরেও কৃষি বিল নিয়ে বিতর্ক থেমে নেই৷ সারা দেশজুড়ে বিরোধীরা তো বটেই, প্রতিবাদে নেমেছে হাজার-হাজার কৃষক। যদিও তাতেও মাথা নোয়াতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার নিজের ৬৯তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে তিনি ফের জোর গলায় দাবি করেন, ‘দেশের কৃষকরা এখন তাঁদের স্বইচ্ছার মালিক। এখন থেকে যেখানে ইচ্ছা সেখানেই কৃষকরা তাঁদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন। তাতে তাঁদের আয় বাড়বে।’

সেইসঙ্গেই এদিন মোদীর সংযোজন, ‘এই বিল নিয়ে এক শ্রেণির তরফে ভুল বোঝানো হচ্ছে। আসলে এই বিল দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করবে। নিজের ইচ্ছায় কৃষকরা এখন তাঁদের উৎপাদিত ফসল বেচতে পারবেন। বলা হচ্ছে, সহায়ক মূল্যের কোনও সংস্থান নেই বিলে। তা একদম ভুল। কৃষকরা চাইলে সহায়ক মূল্যেও পণ্য বিক্রির সুবিধা রয়েছে এই বিলে।’ লকডাউন পর্বে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, ‘কৃষকরাই হল দেশের আত্মনির্ভরতার আসল ভিত্তি।’

মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের নাম না করে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর দেখানো আর্থিক দর্শনের পথে দেশ যদি চলত, তাহলে আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন অনেক আগেই সফল হয়ে যেত।’ উল্লেখ্য, গত ৩০ অগস্টের ‘মন কি বাতে’ কৃষকদের প্রশংসা করেও

নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতিতেও বিপুল শস্য ফলাতে সফল হয়েছেন চাষিরা। সেই সঙ্গে ভারতে স্টার্টআপ ব্যবসা বিকাশে খেলনা শিল্পে জোর দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে কৃষিবিল পাশ বিল বি প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের কৃষিক্ষেত্রের সাম্প্রতিক প্রযুক্তি খুবই প্রয়োজন। এই বিল পাশ হয়ে যাওয়ায় আমাদের কৃষকরা ভবিষ্যত্‍‌মুখী প্রযুক্তিকে সহজেই ব্যবহার করতে পারবে। এতে তাঁদের উত্‍‌পাদনও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এটা স্বাগত জানানোর মতো একটা পদক্ষেপ।

‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এদিন করোনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর কথায়, ‘অতিমারীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পারিবারিক মেলবন্ধন যেমন দৃঢ়তর হয়েছে, তেমনই কিছু কিছু পরিবারে মূল্যবোধেরও অভাব ঘটেছে।’

Reply