“স’ন্ত্রা’সের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলা”, রাজ্যকে নিয়ে ফের মুখ খুললেন রাজ্যপাল

রাজ্য এবং রাজ্যপালের সংঘাত নতুন কিছু নয়। প্রায় দিনই রাজ্যে রাজ্যপালের সংঘাত সংবাদ শিরোনামে থাকে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাতের ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বলা যায় সমালোচনার বিষয়।

রেশন দুর্নীতি, আম্ফান ঘূর্ণিঝড়,করোনা মোকাবিলা থেকে শুরু করে কৃষি বিল রাজ্যের বিরোধিতায় মত রাজ্যপাল। রাজভবনের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন,”রাজ্যের প্রশাসনে হার্মাদরা ঢুকে গিয়েছে। স’ন্ত্রা’সের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলা।”

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের প্রশাসনিক ক্রিয়া-কলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। রাজ্য পুলিশের কাছে ডিজির রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন,”আমি বারবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি, গু’ণ্ডা’রাজ চলছে রাজ্যে। অথচ আমাকে কোনও রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। কিচ্ছু জানানো হচ্ছে না। মানুষ যাতে আসল সত্যি জানতে না চায়, তাই আমাকেও রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না”।

শাসক দলের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বারেবারে সংবিধান বিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যপাল বলেন,”আমি সংবিধান মেনেই কাজ করছি। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, আমাকে সব জানানো হোক।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের প্রশ্নের উত্তর দেন না, এমন ঘটনা উদাহরণ হিসেবে মোটেই ভালো নয়। ইলেকট্রনিক নজরদারি চলছে সব ক্ষেত্রে, স্পষ্টভাবেই শাসকদলের হয়ে কাজ করছে পুলিশ। গণতন্ত্র এবং পুলিশরাজ কখনই একসঙ্গে চলতে পারে না”।

বেশ কিছুদিন আগের রাজ্য পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্র কে সরাসরি কটাক্ষ্য করেছিলেন রাজ্যপাল। টুইটারে লিখেছিলেন,”রাজ্য পুলিশের ডিজি উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তাঁর ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখে আমি সত্যিই হতবাক।”

অন্যদিকে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যে চুপ করে থাকেন নি। তিনি বলেন,”রাজ্যপালের ভন্ডামি নতুন না। একটা পারপাস নিয়ে তিনি এসেছেন।

বিজেপি কথা বেশি উচ্চারণ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে হেয় করাই তাঁর আসল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করলে সেই পদের গরিমা থাকে না, এটা রাজ্যপাল বুঝতে পারছেন না।”

অন্যদিকে রাজ্যের শিবসেনা নেতৃত্ব রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিধাননগর পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। শিবসেনার রাজ্য সম্পাদক অশোক সরকার ও অন্যান্য নেতৃত্বরা এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পত্রে লেখা হয়েছে যে, রাজ্যপাল প্রত্যেকদিন যা মন্তব্য করছেন তাতে বাংলার সম্মানহানি ঘটছে। প্রতিনিয়ত বাংলার সংস্কৃতিকে আঘাত করছেন রাজ্যপাল। কাজ না করে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য ছড়িয়ে শাসক দলের জনপ্রিয়তা কমাতে চাইছেন রাজ্যপাল।

Reply