উপেক্ষিত হলো কৃষকদের আন্দোলন, তিনটি কৃষি বিলেই সই করলেন রাষ্ট্রপতি…

তিন তিনটি কৃষিবিদের প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরে চলা কৃষি বিল বিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হলো। অবশেষে তিনটি কৃষি বিলে সই করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। ফলস্বরূপ জুন মাসে জারি করা কেন্দ্রের তিন-তিনটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হল।

দেশজুড়ে কৃষি বিল বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে বিরোধীরা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যাতে কৃষি বিলে সই না করা হয়। অকালি দলও একই আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু কোন আবেদনের প্রত্যুত্তর” না দিয়ে বিলে সই করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত দুটি কৃষি বিল নিয়ে রাজসভায় ব্যাপক ঝঞ্ঝাট শুরু হয়। সভাকক্ষে ডেপুটি চেয়ারম্যান এর মাইক ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি রুল বুক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিরোধীদের বি’রু’দ্ধে।

সাসপেন্ড করা হয় ৮ জন সাংসদ কে। বিরোধীরা প্রতিবাদ করে রজ্য সভা বয়কট করেন। বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেই রাজ্যসভায় তৃতীয় বিলটি পাশ হয়ে যায়।

বিরোধীদের অভিযোগ, বিরোধী না থাকায় গায়ের জোরেই তিন-তিনটি কৃষি বিল পাস করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটাভুটির আবেদন করলেও তা গ্রাহ্য না করে ধ্বনি ভোটে পাশ করিয়ে দেওয়া হয় তিনটি কৃষি বিল।

সংসদীয় নীতির অবমাননা করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছিল তৃণমূল, সিপিআইএম, কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধীরা। সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির কাছে বিলে সই না করানোর জন্য চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁরা। মানা হলো না বিরোধীদের আর্জি।

সংসদীয় নীতি অনুযায়ী কোন বিল সংসদের উভয় কক্ষের পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে রাষ্ট্রপতি তার পুনর্বার বিবেচনা করার জন্য দাবি জানাতে পারেন। একইসঙ্গে সরকারকে এই বিল পরিবর্তনের দাবি জানাতে পারেন রাষ্ট্রপতি। আবারো সেই বিল পাস করিয়ে পাঠাতে হয় রাস্ট্রপতির কাছে। দ্বিতীয়বার সংসদে বিল পাশ হলে তখন সেই বিলে সই করতে বাধ্য হন রাষ্ট্রপতি।

কৃষি বিলের প্রতিবাদে পাঞ্জাব হরিয়ানা সহ বেশকিছু রাজ্যে কৃষকগণ বিক্ষোভ সামিল হন। এখনো পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ অবরোধ বিক্ষোভ মিছিল চলছে। পাঞ্জাবের শিরোমনি অকালি দল বিজেপি নেতৃত্ব ত্যাগ করেছেন। তারই মধ্যে রাষ্ট্রপতির তিন-তিনটি বিলে সম্মতি প্রদান।

Reply