ভারতীয় গণতন্ত্রের ‘রাম যাত্রা’ শুরু হয়েছে: বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য

প্রথমে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তারপরে বাবরি মসজিদ ধ্বং’সকারীদের বেকসুর খালাস করে দিয়েছে লখনউয়ের বিশেষ আদালত। এক বছরের মধ্যে এই দুই ঘটনার জেরে প্রমাদ গুণতে শুরু করে দিয়েছেন সিপিএম সাংসদ তথা কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে ঘোষণা হয়েছে বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের রায়। সেখানে অভিযুক্ত ৩২ জনকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নানাবিধ বি’তর্ক। অভিযুক্তদের অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় তদন্তের গতি-প্রকৃতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম সাংসদ

বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছর পরে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ মামলার রায়দান হয়েছে চলতি সপ্তাহের বুধবার। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত জানিয়েছে, তাণ্ডবের ঘটনা আচমকা ঘটে গিয়েছে৷ পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল না৷ মামলার শুনানিতে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস বলে ঘোষণা করে দিয়েছে আদালত৷

রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বাবরি মসজিদ ধ্বং’সের রায়কে কটাক্ষ করে বলেছেন, “বাবরি মসজিদ কেউ ভাঙ্গেনি। হঠাৎকিছু সমাজবিরোধী রেগে গিয়ে ওটা ভেঙ্গেছে। রামভক্ত বিচারকের রামযুক্তি।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “অনেক র’ক্তক্ষ’য়ের ফলে অর্জিত ভারতীয় গণতন্ত্রের রাম যাত্রা শুরু হয়েছে।”

এমনটা যে ঘটতে চলেছে সেই বিষয়ে অনেক আগেই আশঙ্কা করেছিলেন বিকাশবাবু। প্রায় দেড় বছর আগে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের জন্য এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়েই নাকি তাঁর মনে এই আশঙ্কা জন্মেছিল। তবে সেই আশঙ্কা এত শীঘ্রই বাস্তবের রূপ নেবে তা ছিল বিকাশ ভট্টাচার্যের কল্পনার অতীত। তাঁর কথায়, “মোদী দ্বিতীয় বার যখন শপথনিলেন তখন সংবিধানের স’র্বনাশের আ’শঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। তা যে এত দ্রুত এগিয়ে আসবে তা ভাবিনি।”

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রাম ভুমিস্থানে অবস্থিত বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার আগে গোটা ভারত জুড়ে রথযাত্রা করেছিলেন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী। বাবরি মসজিদ ভাঙার এই ঘটনা ও তার পরবর্তীকালে গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে চলা হিংসার ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়। সেই ঘটনারই রায়দান বুধবার করেছে লখনউয়ের বিশেষ আদালত।

Reply