‘দরজা বড় করে রেখেছি’, শুভেন্দুকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য দিলীপের

কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষিবিলের সমর্থনে গত দুদিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দাপিয়ে বেড়ালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। শনিবারের পর রবিবার সকালেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নাতে মিছিল ও সভা করেন দিলীপ ঘোষ।

এদিন সংবাদিকরা প্রশ্ন করেন রাজ্য সরকারের অন্যতম মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখন কেন সেইভাবে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন না? তাহলে কি বিজেপিতে যোগদান করছেন?

সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের দরজা বড় করে রেখেছি সবার জন্য৷ যে আসতে চাইবে তাঁকে স্যানিটাইজ করে নেবো।” সম্প্রতি রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে তিনি দলে থাকবেন না, বিজেপি বা অন্যকোনও দলে যোগদান করবে তা নিয়ে রাজ্যের মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।

রাজ্যের অন্যতম মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক পথ কোন দিকে গোড়ায় তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ। পাশাপাশি এদিন তিনি আরও বলেন, দিদি লোকসভা নির্বাচনে প্রচার করেছিল ২০১৯ বিজেপি ফিনিশ। আমি দিদিকে বলেছিলাম ২০১৯ বিজেপি কি জিনিস তা ২১ শে আবার জানতে পারবেন।

অন্যদিকে আজ রবিবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর সঙ্গে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। এদিন ময়না যাওয়ার আগে তমলুকে প্রাতঃভ্রমণ করতে বেরিয়েছিলেন তিনি।

তারপর রূপনারায়ণ নদীর কাছে চায়ে পে চর্চায় যোগ দিতে গেলে কালো পতাকার সম্মুখীন হন। তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগানও তোলেন তৃণমূল কর্মীরা। পালটা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। কিছুক্ষণ পর আয়ত্তে আসে পরিস্থিতি।

এরপর চায়ে পে চর্চায় যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্যকে আক্রমণ করেন তিনি। তমলুকের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলাম। সেখানে যদি কেউ কালো পতাকা দেখায় তাহলে ভাবতে হবে তাঁর মাথার ঠিক নেই। সরকার নেই, দল নেই তাই মুখ্যমন্ত্রীর মাথার ঠিক নেই, তাঁর ভাইদের কী হবে? যাদের দোকান উঠে যাচ্ছে তারা চেঁচামেচি করছে। যাদের মুখ কালো হয়ে যায় তাঁরা কালো পতাকাই দেখায়।”

কৃষি বিলের সমর্থনে শনিবার খড়গপুরে একটি সভা করেছিলেন দিলীপ ঘোষ।সেখানে পুলিশকে কদর্য আ’ক্র’ম’ণ করেছিলেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, “পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে কর্মীদের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। দলের চুনোপুঁটিদের ভয় দেখিয়ে ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ওই ভাড়াটে সেনা দিয়ে হবে না। কার্যকর্তাদের বুকে আগুন জ্বলছে। ওই পুলিশ, ওই গুন্ডার মুখে প্র’স্রা’ব করে দিই আমরা।” এই মন্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Reply