অশনি সংকেত! চলতি অর্থবর্ষে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

একদিকে ক’রোনা পরিস্থিতি অন্যদিকে সরকারের ভ্রান্তনীতি। দুইয়ের চাপে দেশে বিনিয়োগের বাজারের বেহাল দশা। গত ১৬ বছরের মধ্যে এই বছর প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ সবচেয়ে নিম্ন গামী হতে চলেছে।

২০০৪-০৫ অর্থবর্ষের পর একেবারে সর্বনিম্ন। এমনটাই জানিয়েছে থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি। চলতি অর্থবর্ষে এখনো পর্যন্ত যে পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে তাতে এ বছর মোট প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ ট্রিলিয়ন টাকার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, লকডাউন শুরু হওয়ার আগের প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ কোটির নতুন বিনিয়োগের প্রস্তাব আসতো। অর্থনীতির পরিমাণ যদি ভাল হত তবে এই অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হত। লকডাউন এরপর তা আরো কমে গিয়েছে।

গত তিন মাসে ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছিল,মাত্র ৩২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই টাকার পরিমাণ বাজপেয়ি সরকারের শেষ বছরের পর সর্বনিম্ন।

চলতি অর্থবর্ষে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তাব আসতে পারে ১.৩ ট্রিলিয়ন টাকার, এমনটা মনে করছে থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি। ২০০৪-০৫ অর্থবছর মধ্যে আজ পর্যন্ত কোনওদিন ৫ ট্রিলিয়নের নিচে এই পরিমাণ নামেনি। অর্থনীতির ক্ষেত্রে এটি চরম বিপদ।

মোদি যুগে ভারতবর্ষে ব্যবসায়ী পরিণতির হাল ফিরেছে বলে জানিয়েছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস তালিকাতে ভারতের উন্নতি হয়েছে। তবে সবটাই যে খাতায়-কলমে তা বোঝাই যাচ্ছে।

দেশ স্থায়ী সরকার থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে কমছে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ। দেশ জুড়ে ক’রো’না পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতির অবস্থা বেহাল। আগেও খুব একটা ভালো ছিল না। ফলে বেসরকারি সংস্থা গুলিও আস্থা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিনিয়োগ কমলে কাজের সুযোগ এবং উৎপাদন কমবে। সাথে বাড়ছে বেকারত্ব ও মূল্য বৃদ্ধি। যা দেশের পক্ষে শোচনীয় পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

Reply