‘বিজেপি নামক অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতেই এবার মা দুর্গা আসছেন!’

‘বিজেপি নামক অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে দুর্গতিনাশিনী মা আসছেন।’ সোমবার ‘জাগো বাংলা’র মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ‘বাপ রে বাপ! কী ভয়াবহ। একদিকে করোনা, একদিকে ডেঙ্গু আর একদিকে বিজেপি।’ বিজেপির বিরুদ্ধে সুর শানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই বাংলার সংস্কৃতি-সভ্যতা জেনে রাজনীতি করুন। যেনতেন প্রকরেণ ক্ষমতা দখল করতেই হবে। এই মনোভাব নিয়ে বাংলা দখল করা যাবে না। বাংলা দখল করা এত সস্তা নয়।’

দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে এদিন তিনি সরাসরি বলেন, ‘অসম-উত্তরপ্রদেশে তো দুর্গাপুজো করতেই দিচ্ছে না। দিল্লিতেও মাত্র একটা পুজো হচ্ছে।’ সাধারণ মানুষের জন্যে এদিন তিনি আরও একবার জরুরি উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এবার বিজয়া করুন সামলে। বাড়ির বাইরে কারও পায়ে হাত দিয়ে এবছর বিজয়া না করাই ভালো।’ সেইসঙ্গেই টিভি চ্যানেল গুলোর কাছে আবেদন করে তিনি বলেন, ‘এবার ভিড়ের প্রতিযোগিতা দেখানো বন্ধ রাখুন। বরং যে পুজোগুলো কোভিড প্রোটোকল ভাল করে মানবে, সেই পুজো বেশি করে দেখান। উত্তর বনাম দক্ষিণের ভিড়ের লড়াই দেখাবেন না।’

পুজোর পরই বাংলায় করোনা সংক্রমণ মারাত্মক বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল উদ্বোধনের রাস্তায় হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও এদিন তিনি ‘চেতলা অগ্রণী’ ক্লাবের পুজোয় গিয়ে দেবীর চক্ষুদান করেন। তবে, একাধিক স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে যে এবছরের পুজো সুসম্পন্ন করা হবে, সে কথাও বারবার বলছেন তিনি। তাই পুজো উদ্বোধন করতে এবার সশরীরে কোথাও যাওয়া নয়, বরং যে সব পুজো উদ্যোক্তারা মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে তাঁদের পুজোর উদ্বোধন করাতে চান, তাঁরা আবেদন করলে, তার ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সেই সব পুজো উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে, রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের পুজো বলে সপরিচিত চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে প্রতি বছরই মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে দেবীর চক্ষুদান করেন। এবছরও তার অন্যথা হল না। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তিনি চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে ঢুকেই রং-তুলি হাতে মূর্তির ত্রিনয়ন আঁকেন। এরপর মণ্ডপ কেমন হল, তা দেখে সমস্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন পুজোর মূল উদ্যোক্তা ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে। তবে, সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও বক্তব্য রাখেননি তিনি।

Reply