গ্রামে করো বই কেনার টাকা নেই! মানুষের সাহায্য করতে চায়ের দোকানকেই লাইব্রেরী বানিয়ে ফেললেন এই ব্যক্তি

শিক্ষার কোন বিকল্প হয় না। যে সমস্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার অভাব তারাই বোঝে আসলে শিক্ষার গুরুত্ব কতটা। কতশত ছাত্র-ছাত্রী এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে পড়াশোনা করে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রথমে দরকার পড়াশোনা এবং নৈতিক শিক্ষা।

নৈতিক শিক্ষা বাড়ি থেকে তৈরি হলেও পড়াশোনার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের বই। আজও পড়াশোনার সুযোগের অভাবে হতাশায় ভোগেন বহু মানুষ। তাদের ভাবনা, একবার যদি সুযোগ পেতাম একটু পড়াশোনা করবার।

দেশে শিক্ষার সমাহার দেশকে আরও উন্নতির পথে চালিত করে। আর পাঁচটা দেশের সামনে নিজের দেশকে মেলে ধরতে শিক্ষার চেয়ে বড় বিকল্প আর কিছু নেই। শিক্ষার গুরুত্ব যে কতখানি তা খুব সহজেই অনুমান করতে পেরেছেন জনৈক চা বিক্রেতা পি ভি চিন্নাথাম্বি। কেরলের ইদুক্কি জেলায় তার বাড়ি। নিজের চায়ের দোকানে তিনি এক লাইব্রেরী খুলে ফেলেছেন। এই লাইব্রেরী খোলার প্রথমে উদ্যোগ নেন শিক্ষক পি কে মুরলীধরন।

কেরলের ইদুক্কি জেলার এদুমালাক্কাডি গ্রামে প্রথম পঞ্চায়েত গঠিত হয় ২০১০ সাল নাগাদ। আর সেই বছর থেকেই এই দুজন ব্যক্তি এলাকার মানুষকে শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। শিক্ষক মুরলিধরন আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের জন্য শিক্ষার প্রসার চেয়েছিলেন। শিক্ষকের মহান উদ্দেশ্যের দিকে নজর পড়ে ওই চা বিক্রেতার।

এরপর থেকে শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। আদিবাসী মানুষদের কিভাবে সু শিক্ষিত করে তোলা যায় তার জন্য চিন্তা ভাবনা চলতে থাকে। এরপর থেকে আদিবাসী মানুষদের বই পড়ার উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞাত করা হয়।

এক প্রকার বাধা বিপত্তি কাটিয়ে জোর করেই তাদের এই কর্মযজ্ঞে সামিল হয়েছেন। যখন তারা সফলতা অর্জন করতে শুরু করেন তখন চায়ের দোকানে একটি লাইব্রেরী করে ফেলেন। এরপর থেকে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে মানুষদের বই পড়ার প্রতি এক অদম্য ইচ্ছা জাগে।

এমন এক মহানুভবতার কথা জানতে পেরে বহু মানুষ এই লাইব্রেরীতে বই দিয়ে গেছেন। বর্তমানে সেই চায়ের দোকানের লাইব্রেরীতে অনেকেই পড়াশোনা করেন।এক চা বিক্রেতা এবং শিক্ষকের হাত ধরে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শিক্ষার প্রসার ক্রমেই এগিয়ে চলেছে।

Reply