বড় মস্তান তো আমি! ২১-এ জয়ের পর দুদিক থেকে পেটানো হবে, বললেন তপন দাশগুপ্ত

রবিবার উত্তরপাড়ার সভায় দলীয় কর্মীদের বি’রুদ্ধে দল ভাঙিয়ে খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন বেচারাম মান্না। এই ধরনের নেতাকর্মীদের গলাধাক্কা দিয়ে দল থেকে বের করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

তার মন্তব্যের পর এবার হুগলি জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন। নিজের বিধানসভা এলাকায় শব্দ গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তপন দাশগুপ্ত।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তপন দাশগুপ্ত বলেন,”কেউ কেউ বলছে সে নাকি ম’স্তান। আরে সবচেয়ে বড় ম’স্তান তো তপন দাশগুপ্ত। তুমি কী ম’স্তানি দেখাবে।” তার কথায়, তাকে কেউ হারানোর ষড়যন্ত্র করছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”যারা চক্রান্ত করছে তাদেরও চ’ক্রা’ন্তের মধ্যে পড়তে হবে।

আমার পুলিশ, আইবি দুনম্বরিদের তালিকা করবে। একুশে আমি আবার জিতব। তারপর আর এবার নজরুল গীতি, শ্যামা সঙ্গীত বাজবে না। দু’দিক দিয়ে পেটানো হবে।” পেটানোর অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তপন দাশগুপ্ত বলেন,”একদিকে সিপিএম-বিজেপিকে পেটানো হবে।

আর অন্যদিকে দলের মধ্যে যারা মীরজাফর তাদেরও পেটানো হবে।” তিনি আরও বলেন,”২০০৮ সালে মহানাদে ৪০টি গাড়ি নিয়ে সিপিএমকে পিটিয়েছিলাম। আমি দলের কর্মীদের অপমান সহ্য করব না। কোনও ভোগখোর নেতাকে মানব না।”

বিজেপির কিষাণ মোর্চার রাজ্য নেতা স্বরাজ ঘোষের বিরুদ্ধে নাম না করে আ’ক্রমণ করে তপন দাশগুপ্ত বলেন,”হাড়িটের এক প্রোমোটার দেখলাম মুকুল রায়ের সঙ্গে ছবি দিয়েছে। মুকুল রায়ের সঙ্গে ছবি দিলেই নেতা হয়ে গেল? কোমরে মেশিন নিয়ে ঘোরে বলে লোককে চমকায়। ও জানে না যে, মেশিনের মুখটা ঘুরিয়ে দিতে আমার এক মিনিট সময় লাগবে না।”

এদিন তিনি হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বলেন,”করোনার সময়ে আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২ ধরে রাস্তায় রয়েছেন। আমিও আমার বিধানসভা এলাকায় রাস্তায় রয়েছি। কোথায় ছিলেন লকেট সুন্দরী?”

এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান,”সমাজবিরোধীরা যদি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান তাহলে এটাই হয়। নিজেই নিজেকে মস্তান বলছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল দলটা আসলে কারা করে।”

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হুগলি জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে যে অন্তর্কলহ চলছে তা তপন দাশগুপ্তের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন কিংবা কে হবেন না সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে তপন দাশগুপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর আগে যেতে চাইছেন।

Reply