বাবা মা না খেয়ে, আমাদের খাওয়াতেনঃ লুকাকু

লুকাকুর নাম-যশ-খ্যাতি, বিত্ত-বৈভব, এখন সবই আছে। কিন্তু একটা সময় এসবের কিছুই ছিল না। এমনকি ঘরে থাকত না পর্যাপ্ত খাবারও। সেই দুঃসময়ের দিকে ফিরে তাকালেন রোমেলু লুকাকু। জানালেন, তাদের পথচলা সহজ করতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের বাবা-মা।

লুকাকু চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচে ইন্টার মিলানের হয়ে তিন গোল করেছেন। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন ৩৪টি; ইন্টার মিলান সেরি আ ও ইউরোপা লিগে হয় রানার্সআপ। লুকাকু ইন্টারের আক্রমণভাগের এই নির্ভরযোগ্য সেনানী গাজেত্তো দেল্লো স্পোর্তের সঙ্গে আলাপচারিতায় শৈশবের সেই কষ্টের দিনগুলিতে ফিরে গেলেন। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করলেন বন্ধুর পথ পেরিয়ে তার এতটা দূর পৌঁছানোর পেছনে বাবা-মায়ের অবদান।

লুকাকু বলেন, “প্রতিটি দিন বাবা আমাকে মাঠে ও মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা, সঠিক মানসিকতা শেখাতেন। সবাইকে শ্রদ্ধা করতে, দেখা হলে হ্যালো বলতে শেখাতেন। এগুলো আসলেই ছোটখাটো বিষয়, কিন্তু এগুলো প্রতিদিন আমাকে সাহায্য করত।”

লুকাকু বলেন, “যখন বাবা পেশাদার ফুটবল খেলা ছাড়ল, আমার বয়স ছিল ছয় বছর এবং মায়ের ডায়বেটিকের চিকিৎসা চলছিল। আমরা কয়েকটা বছর কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম। মায়ের কোনো টাকা ছিল না, তাই সে রেস্টুরেন্টে কাজ করত। আমার ভাই ও আমি ম্যাচের পর মায়ের সঙ্গে যেতাম। আমার ভাই ও আমি যেন খেতে পারি, এজন্য বাবা-মা রাতের খাবার খেত না।”

লুকাকু বলেন, গোলের উদযাপনে তাই মাকে স্মরণ করেন বেলজিয়ান এই ফরোয়ার্ড। “প্রতিটি গোলের সময় আমি ‘এ’ চিহ্নটা দেখায় এবং গোলটা মাকে উৎসর্গ করি। এটা আমার মা আদোলফিনের জন্য। কেননা, তাকে ছাড়া আমি আজ এখানে থাকতে পারতাম না।” ২০০৯ সালে আন্ডারলেখটের হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু লুকাকুর। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। চেলসি, এভারটন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘুরে এখন খেলছেন ইন্টারে। আন্ডারলেখটের সেই দিনগুলোর স্মৃতিও আওড়ালেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

পরিশেষে লুকাকু বলেন, “আন্ডারলেখটের হয়ে খেলার জন্য উন্মুখ ছিলাম আমি। খেললাম এবং এটা ছিল আমার একটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো।”

Reply