“আমার মা হিন্দু, স্ত্রী মুসলিম”, লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন নেটিজেনরা

তনিশক্-এর বিজ্ঞাপনে ছড়ানো হচ্ছে ‘লাভ জেহাদ’-এর বার্তা, সম্প্রতি এমন অভিযোগে ছেয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া। তনিশক্-এর তরফ থেকে বিজ্ঞাপন তুলে নেওয়ার পরেও ট্যুইটারে ট্রেন্ড চলেছে, “বয়কট তনিশক্”। তবে বিজ্ঞাপনের প্রতিক্রিয়া এক তরফা নয়। জনপ্রিয় অভিনেতা, লেখক থেকে শুরু করে স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ, তনিশক্-এর পাশে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছেন অনেকেই। একের পর এক ব্যক্তিগত জীবনের আন্তর্ধমীয় বিবাহের দৃষ্টান্ত দিয়ে তাঁরা দেখিয়েছেন, তনিশক্-এর বিজ্ঞাপনে “লাভ জিহাদ”-এর অস্তিত্ব ছিল না কখনোই। ছিল মানুষে মানুষে নিখাদ দুর্মূল্য ভালোবাসা।

সম্প্রতি অভিনেতা জিশান আয়ুবের স্ত্রী রাশিকা আগাসি ট্যুইটারে শেয়ার করেন শ্বশুর বাড়িতে তাঁর সাধের একটি দৃশ্য। ছবির সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “আমার সাধের একটি ছবি শেয়ার করলাম। লাভ জিহাদ নিয়ে চিৎকার করার আগে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট জেনে আসা দরকার।”


ট্যুইট করেছেন বিশিষ্ট লেখক মৃনাল পান্ডেও। লিখেছেন, “আমার মেয়ে আমেরিকায় একজন ভারতীয় মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেছে। এবং এর জন্য ধর্ম পরিবর্তন করে নি। আমাদের প্রথম নাতি জন্মানোর সময় দুই তরফের মা আমেরিকা যান, একসাথে সকলে মিলে আমরা আনন্দ করেছি। রাতে ” ইয়া আল্লাহ ” আর “হে রাম” একসঙ্গে উচ্চারণ করে ঘুমিয়ে পড়েছি।”

তেহসিন পুনাওয়ালাও নিজের আন্তর্ধর্মীয় পরিবারের সম্প্রীতির কথা জানিয়েছেন ট্যুইটারে। বলেছেন, “আমার মা একজন মুসলিম এবং স্ত্রী একজন হিন্দু। মা ওকে ওর মন্দির উপহার দিয়েছেন। আমাদের বাড়িতে দিওয়ালির দিন আমার বউ লক্ষ্মীপুজো করেন। মা পুজোর আয়োজনে সাহায্যও করেন। তনিশক্-এর বিজ্ঞাপন কাল্পনিক নয়, আমাদের পরিবারের দৃশ্যায়ন।”


তনিশক্-এর বিজ্ঞাপনটিকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন বীর দাস। বলেছেন, “আপনার বিশ্বাস যাই হোক না কেন, তা যদি এতই ঠুনকো হয় যে বিজ্ঞাপন, বই, সিনেমা বা শিল্পের দ্বারা নড়ে যাবে তবে নিঃসন্দেহে সে বিশ্বাস দৃঢ় নয়। আপনি যা ভাবছেন সারা বিশ্বকেও সেটাই ভাবতে হবে, এমন চিন্তা অবাস্তব।”

আন্তর্ধর্মীয় বিবাহ নিয়ে এমনই আরো নানা উদাহরণে ছেয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ইতিমধ্যে তনিশক্-এর তরফ থেকে “তনিশক্-এর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের হুমকির” অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশই পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁদের। বক্তব্য একটাই, এই দুর্দিনে হিংসা বিদ্বেষ বা লাভ জিহাদ নয়, আরো খানিক ভালোবাসাই ছড়িয়েছিল তনিশক্, আজকের সময়ে যা দুর্মূল্য।

Reply