“উনি আগে উত্তরপ্রদেশ সামলাক”, অমিত শাহকে কটাক্ষ মমতার

বাংলার শাসন ব্যবস্থার যা অবস্থা তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে বলে দাবি করেছিল বিজেপি। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একথা বলেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর থেকে এই ধরনের মন্তব্য শুনার পর সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন রাজ্যসভায় বলেন,”বাংলায় বিজেপির মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে তা নিয়ে শাহ চুপ কেন? ওঁর তো আগে সেটা নিয়েই কথা বলা উচিত ছিল। উনি আগে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসটা ভাল করে জানুন। জানুন যে, বাম আমলে রাজ্যটার কী অবস্থা হয়েছিল আর সেখান থেকে কতটা এগিয়ে এসেছে বাংলা।”

এখানেই থেমে থাকেনি ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি আরো বলেন,”অমিত শাহ আগে উত্তরপ্রদেশ-গুজরাতে নজর দিন। রাজনৈতিক হত্যার বিষয়টা উনি নিজে ভাল করে জানেন”।

তৃণমূলের লোকসভার সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অমিত শাহ নিজে আইন ভঙ্গ করছেন এবং তা করছেন রাজ্যপালের মাধ্যমে। ক্ষমতা থাকলে এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেখান। উত্তরাখণ্ডের পরিণতি ভুলে গিয়েছেন ওঁরা।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,”রাজ্যের পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে তাঁদের এই দাবি ন্যায়সঙ্গত।”

বিজেপির কর্মী সমর্থকদের দাবি প্রসঙ্গেই একথা বলেন তিনি। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বাবুল সুপ্রিয়রা বেশ কিছু দিন ধরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবিতে সরব হয়েছেন।

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, বাংলা নিয়ে অমিত শাহের ধারণা রয়েছে তা স্বচ্ছ নয়। উত্তর প্রদেশে আইনের শাসন থমকে গিয়েছে। কিন্তু সেটা নিয়ে তিনি কিছু বলছেন না। বাংলার অবস্থা নিয়ে তিনি যা বলছেন তা ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে শুধু তার মূল কংগ্রেস নয়, রাষ্ট্রপতি শাসনের বিরোধিতা জানিয়েছেন, সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও।

Reply