সকলের জন্য নয় লোকাল ট্রেন? বন্ধ হচ্ছে রাজ্যের স্টেশনের একাধিক পথ

বর্তমান রেল পরিষেবা সকলের জন্য নয়,তাই জন্যই কি শহরতলির স্টেশনগুলির বিভিন্ন প্রবেশ ও নির্গমন পথ বন্ধ করে দিচ্ছে রেল? আমজনতার মনে এই একই প্রশ্ন। হঠাৎ করে রেল কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্ল্যাটফর্ম এর ওপরে টিন এবং রেলিং দিয়ে ঘিরে দেয়া হচ্ছে প্রবেশপথ এবং নির্গমনের রাস্তা।

এমনই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের বহু স্টেশনে। অবাধ প্রবেশাধিকার রুখতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হাওড়ার ডিআরএম ইশাক খান জানিয়েছেন, স্টেশনে যাতে ন্যূনতম সংখ্যায় যাত্রী প্রবেশ করতে পারে, সেই জন্যই ঘিরে ফেলা হচ্ছে প্রবেশ এবং নির্গমন পথের একাংশ। লোকাল ট্রেন চালু হলে যাতে যাত্রীদের ভিড় স্টেশনে এবং ট্রেনে আছে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট যে, স্টেশনে কিংবা লোকাল ট্রেনে প্রবেশাধিকার সকলের থাকছে না। ইশাক খান আরো জানান,”প্রথমে কোন শ্রেণির যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করবেন তা বলবে রাজ্য।

রাজ্য কম সংখ্যক যাত্রী ট্রেনে তোলার নির্দেশ দিল, সেই মতো কাজ হবে। রোড সাইড স্টেশনগুলিতে আরপিএফ কম থাকে। দুটি গেট থাকলে তাঁরা ভিড় আটকাতে পারবেন।”

রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে রেল চালানোর জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি প্রদান করলেও তার কোনো উত্তর মেলেনি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। পুজোর পর এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

শিয়ালদহের ডিআরএম এসপি সিং জানান, “রাজ্য আলোচনার পর বিধিনিষেধ জারি করলে প্রস্তুতি নিতে সময় লাগবে। তাই আগেভাগে রেল প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। স্টেশনের বিভিন্ন পথ বন্ধ করা হচ্ছে।”

রেলকর্মীদের জন্য হাওড়ায় ৫২টি ও শিয়ালদহে ১৩০টি ট্রেন চলছে। স্পেশাল ট্রেনের পুজোর সময় যাতে যাতে ঢল নামে সেই জন্য ঘিরে ফেলা হচ্ছে স্টেশনের প্রবেশপথ। পুজোর সময় হোক বা পুজোর পর ট্রেন চলাচল করলে সরকারের এই পদক্ষেপ কাজে আসতে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

ইতিমধ্যেই আরপিএফ কর্মীরা পরীক্ষামূলকভাবে ট্রায়াল শুরু করেছেন। সামাজিক দূরত্ব মেনে কত জন যাত্রী স্টেশনে ঢুকবে বেরোবে কিংবা অপেক্ষা করবে সে বিষয়ে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাস্ক পরিহিত স্নিফার ডগ মাস্ক ব্যবহার, দূরত্ব বজায়, থুথু না ফেলার আবেদনমূলক বাক্য লেখা পোস্টার পিঠে লাগিয়ে স্টেশন চত্বরে ঘুরছে।

Reply