‘এটাই লাস্ট ওয়ার্নিং’, সংবিধান মেনে চলুন, রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি রাজ্যপালের

ফের আর একবার মমতা ব্যানার্জিকে হুঁশিয়ারি দিলেন দেশের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।তিনি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ তুলে রবিবার রাতে রাজ্য সরকারকে শেষবারের মতো সাবধান করে দিলেন।

তিনি এই দিন বলেন যে,”আমি মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই যে, সংবিধান মেনে কাজ করুন। আমি সংবিধান রক্ষা করতে এই রাজ্যে এসেছি। অনেকে আ’গু’ন নিয়ে খেলা করছে, কিন্তু তারা কেউ রাজনৈতিক কর্মী নয়।

তাদের রাজনৈতিক কোভিদ মতো আচরণ করা কিন্তু ঠিক নয়। যারা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছেন, তারা হয়তো জানেন না, নিয়তি বলে কিছু একটা আছে। এটা আমার লাস্ট ওয়ার্নিং”।

রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ পুলিশি হেফাজতে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে মৃ-‘ত্যু হয় মদন ঘরুইয়ের। তাদের পরিবারকে নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান লকেট চট্টোপাধ্যায় ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর রাজ্য সরকারকে সাবধান বানী দেন রাজ্যপাল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,রাজ ভবনের প্রবেশপথের সিঁড়ির কাছে অন্যদের মতো দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ করে বিজেপি কর্মীর ভাই স্বপন ঘরুই মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাকে দেখে তাড়াতাড়ি রাজ্যপাল সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন। স্বপন বাবু হিজড়া সামলে নেওয়ার পর তার সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যপাল।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কড়া বার্তা দিয়ে রাজ্যপাল বলেন যে,”আপনি কিছুতেই ভাববেন না যে রাজ্যপালকে উপহাস করে থামিয়ে দিতে পারবেন। এটি শেষ সর্তকতা।আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে যে কোন সময়ে রাজ্য তাদের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে আপনাকে”।

সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের একই অভিযোগ যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এই ঘটনা ঘটেছিল। তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে উদ্দেশ্য করে রাজ্যপাল এই কথা লেখেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রসঙ্গে একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন,”পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার অরাজকতা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি সেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু হতে পারে”।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভাইপোর প্রণয়ঘটিত একটি ঘটনায় কাকা মদন বাবু কে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। জেলহাজতে থাকা কালিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে তাকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

১৩ ই অক্টোবর সেখানে মা”রা যান এই বিজেপি কর্মী। সমস্ত ঘটনায় তৃণমূল জড়িয়ে রয়েছে, এই অভিযোগ করে বিজেপি হাইকোর্টে মামলা করে। এর ফলে সমস্ত ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ভিডিওগ্রাফি আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে হাইকোর্টে।

Reply