সে’ ক্সু’ য়ালি এবিউজ শুধুমাত্র মেয়েরা হয়না, ছেলেরাও হয়…

আজকে যে কথাগুলো লেখতে যাচ্ছি তা সমাজের অতি হতভাগা কিছু ছেলেদের নিয়ে।
এমন কিছু ঘটনা যা তারা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়। অনেকেই হয়তো বলবেন ছেলেদের আবার লুকানোর কিছু আছে নাকি ? কিন্ত ছেলেরাও কিছু জিনিস লুকায় , লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়। কারণ, আমাদের সমাজ এমন অবস্থায় আছে যে কেউই বিশ্বাস করবে না এই কথা।

আমার ক্লোজ একজন বন্ধু, সাবেক প্লে বয়! সাবেক বলাতে মনে হয় একটু অবাক হচ্ছেন। অবাক হওয়ারই কথা। তবে এখন ধর্মের পথে আসছে। যাইহোক কাজের কথায় আসি । সে প্রায়ই মন খারাপ টারাপ করে থাকতো। যেহেতু সে আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড তাই তার মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করাটা ফরজ। তাই একদিন কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলাম। সেও বলে দিলো কিছু লজ্জাজনক ইতিহাস।

ইতিহাসটা সংক্ষেপে বলি –

আমার বন্ধু ছোট বেলায় ভালই সুন্দর ছিলো। চেহারা এখনো সুন্দর। ওর তখন বছর ৬-৭ বয়স। ওরা যে বিল্ডিংয়ে থাকতো সেখানে দোতালায় এক মেয়ে থাকতো। বয়স ১৯-২০ বছর হবে হয়তো। ওই মেয়ের ফ্যামিলির সাথে ওদের ফ্যামিলির খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। আর ও মা-শা-আল্লাহ কিউট থাকায় এলাকার অনেক মেয়েই কোলে নিতো, ঘুরতো। ওই মেয়েও নিতো। মাঝে মাঝে রাতে ওকে নিয়ে ঘুমাতো। সেও আপু বলতে পাগল। কারণ আদর করতো, চকলেট দিতো ইত্যাদি ইত্যাদি। আপুটা একটু বেশিই আদর করতো। আমি একটু খোলামেলাই উপস্থাপন করছি। সারারাত ওকে ডিপলি লিফ কিস করতো। ওর ভাষায় ঠোট, জিহবা কিছুই বাদ যাইতো না। মেয়েটা ঘুমানোর টাইমে খুবই হালকা-পাতলা ড্রেস পরতো। কি পরতো সেটা বললাম না!

কিস করলে ও আলাদা কিছু বুঝতো না তখন। কারণ অনেক আন্টি-আপুরাই দিন ভরে গালে পাপ্পি দিতো। বন্ধু যেদিন ঘুমাতে যেতো কাকতালীয় ভাবে সেইদিনই আপুর বুকে ব্যথা করতো আর বন্ধুকে বিশেষ জায়গায় কিস করতে হত অনেকবার। তাইলে নাকি আপুর ব্যথা কমে যেতো । কিন্ত একটা সময় ওর খুব খারাপ লাগতো। মেয়েটা ওকে খুব শক্ত করে চেপে ধরতো বুকের বিশেষ স্থানের সাথে। আর দুই পা দিয়ে জোর পেচিয়ে ধরে রাখতো। ওর দম বন্ধ লাগতো। কিন্ত সকাল হলেই মেয়ের ব্যবহার স্বাভাবিক। ড্রেসও স্বাভাবিকটাই পরা থাকতো। প্রায় দুই বছর ধরে মাসে ২-৩ বার করে এমন হইতো ওর সাথে। কোন কোন সময় পর পর ৩-৪ দিন ধরেও হইছে। ও খুব ভয় পেত । কাউকে কিছু বলতে পারতো না। যখন ও আমাকে কথাগুলো বলছিলো তখন রাগে ওর ফরসা গাল লাল হয়ে গেছিলো। এই ঘটনা ওর মন ও মস্তিষ্কে দারুণ প্রভাব ফেলছিলো। এরপর ও একটু তাড়াতাড়িই পেকে যায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে। আসলে সবকিছুরই একটা বয়স আছে। আর বয়সের আগে সেই ঘটনা ঘটে যাওয়ার ফলাফল কখনোই ভালো হয়না।

আরেক বন্ধুর ঘটনা –
সে যদিও ক্লোজ বন্ধু না। কিন্ত সে কাউন্সিলিং এর জন্য আসছিলো। তখন সব খুলে বলে। ও তখন সেভেনে পড়ে। মামাবাড়ি বেড়াতে গেছে। মামাবাড়ি ওদের বাসার কাছেই। ওর আপন মামি হুট করে রাতের বেলা এসে ওর পাশে শুয়ে পড়ে। এরপর যা হওয়ার তাই হয়। এরপর থেকে মাঝে মাঝেই ওর মামি কিছুটা ভয় দেখিয়ে বাধ্য করতো। বছরখানেক পর ওর মামার বদলি হয়। তখন ও রেহাই পায়। কিন্ত ও খুবই ভেঙ্গে পড়ে। এতটাই ডিপ্রেসড হয়ে যায় যে এখনো এই ট্রমা থেকে ও বের হতে পারেনি। কারণ ওর তখন ১২-১৩ বছর বয়স । ওর এই কাজ করতে গেলেই ওর মামার কথা মনে পড়তো। কিন্ত মামি এমন ভয় দেখাতো যে ওর আসাই লাগতো। রেজাল্টও খারাপ করে ওই বছর। এখনো ট্রমা থেকে বের হতে পারেনি। একটা কথা, পুরুষ আর মহিলাদের দেহের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।

এসব মহিলাদের কী কখনই শাস্তি হবে না? হয়তো এদের দুই জনের কাহিনী দুই রকম। কিন্ত একটা জিনিস চিন্তা করে দেখুনতো, এরা মেয়েদেরকে কি চোখে দেখবে? সম্মানের চোখে না ঘৃণার চোখে? আর এই বিষয়গুলোকে কেন আইনের আওতায় আনা হয় না? সমাজে এরকম বহুত ছেলে আছে যারা সেক্সুয়াল এবিউজিং এর শিকার।

এরা কি কখনো মেন্টালি স্বাভাবিক লাইফ লিড করতে পারবে?
নিজের বাচ্চা ছেলে- ভাই এদেরকে অজানা,অচেনা মহিলাদের থেকে সাবধানে রাখুন।
আচ্ছা, এই মেয়েদের রেপিস্ট বললে কি খুব অনায্য কিছু বলা হবে?

লিখাঃ যাযাবর

Reply