ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবেই, হতাশ হতে নিষেধ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

২০২৪ সালে ভারতীয় অর্থনীতিকে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছে দেওয়ার চ্যালেঞ্জের কথা ফের এক বার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কোভিড-১৯ অতিমারির ধাক্কায় দুর্বল অর্থনীতির পক্ষে তা কী ভাবে সম্ভব, সে কথাই জানালেন একটি সাক্ষাৎকারে।

২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে স্থির হয়েছিল, আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতিতে ৫ ট্রিলিয়ন বা ৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্যমাত্র পূরণ করতে হলে যে সমস্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তার ছিটেফোঁটাও উল্লেখ করা হয়নি প্রস্তাবিত বাজেটে। এখন তারই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কোভিড অতিমারি। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র কি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে?

কী ভাবে পৌঁছাবে ৫ ট্রিলিয়নে?
ইকনোমিক্স টাইমস-এর কাছে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হতাশাবাদী বেশির ভাগ লোকই এ বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন। আপনি যদি তাঁদের মধ্যে বসে থাকেন, তবে আপনি শুধু হতাশা এবং নিরাশার কথা শুনবেন”।

এর পরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি যদি আশাবাদী লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করেন, তা হলে কী ভাবে উন্নতি সম্ভব, সে বিষয়ে ধারণা এবং পরামর্শের কথা শুনতে পাবেন। আজ আমাদের দেশ উন্নত ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী। আমরা দেশের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছি। এর পিছনে আমাদের আত্মবিশ্বাসও রয়েছে। এখন দেখছেন, করোনাযোদ্ধারা দিনের ১৮-২০ ঘণ্টা পরিশ্রম করছেন। এটা আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা জোগায়”।

কিন্তু এ কথাও নতুন নয়, করোনার কাঁটায় ভারতের জিডিপি রেকর্ড অবনমনের মুখোমুখি। এ প্রসঙ্গে মোদী বলেন, “মহামারিজনিত কারণে আমরা হয়তো এ বছর কাঙ্খিত গতিতে চলতে পারলাম না! কিন্তু এই ক্ষয়ক্ষতিগুলো দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের পথে যদি কোনো বাধা আসে, তা হলে আমরা আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে যাই। ক্রয়শক্তির দিক থেকে ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। আমরা চাই বর্তমান মার্কিন ডলারের নিরিখেও ভারত তৃতীয় বৃহত্তম হয়ে উঠুক। যা পরবর্তীতে আমাদের ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে”।

কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর সহায়ক হিসেবে সরকারের অতীত দক্ষতার কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, “আমাদের সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। আমরা সময়সীমার মধ্যেই গ্রামীণ স্যানিটেশন, বিদ্যুদয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছি। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের লক্ষ্য পূরণের ট্র্যাক রেকর্ড অব্যাহত রয়েছে। দেশবাসী সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের দক্ষতার প্রতি আস্থাও রেখেছেন”।

সকলকে করোনা ভ্যাকসিন!
পাশাপাশি করোনা মোকাবিলার বিস্তারিত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রত্যেক ভারতীয়কে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন (Coronavirus vaccine) দেওয়া হবে। টিকাকরণ কর্মসূচিতে একজনও বাদ পড়বে না বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু ভাবে ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য জাতীয় বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী সারা দেশে ২৮ হাজারেরও বেশি পয়েন্টের মাধ্যমে পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে মোদী বলেন, “প্রথমে আমি সমস্ত দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, যখনই কোনো ভ্যাকসিন হাতে চলে আসবে, তখন সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। কেউ বাদ পড়বে না। অবশ্যই, প্রাথমিক ভাবে আমরা দুর্বল এবং প্রথমসারির কর্মীদের সুরক্ষায় আলোকপাত করব। কোভিড-১৯ (Covid-19) ভ্যাকসিনের জন্য একটি জাতীয় স্তরের বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। পরিকল্পনাকে যাতে সুষ্ঠু ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে দিকেই নজর রাখছে গোষ্ঠী”।

তবে ভারতের হাতে এখনও পর্যন্ত কোনো করোনা ভ্যাকসিন এসে পৌঁছায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভ্যাকসিন তৈরি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এটা কী ভাবে দেওয়া হবে, ক’টা ডোজ দেওয়া হবে, সে সব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিটি নাগরিক যাতে টিকা পান, সে বিষয়ে আমরাও দিকনির্দেশ করব”।

ভ্যাকসিনের বিতরণ এবং সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২৮ হাজারের বেশি কোল্ড চেনের পয়েন্টের মাধ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সংরক্ষণ এবং বিতরণের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্য, জেলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভাগ হয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দলগুলি টিকাকরণ করবে। প্রশাসন পুরো বিষয়ে নজর রাখবে। টিকাকরণ পদ্ধতির সরলীকরণে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে”।

Reply